পুজোয় পাহাড়ে যেতে চান, কিন্তু হিমালয় নিয়ে ভয়?
নেপাল থেকে হিমাচল, উত্তরাখণ্ড— হড়পা বান, ধস আর প্রবল বৃষ্টির ছবি দেখে পুজোর পাহাড় ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় তৈরি হয়েছে। পুজোর ছুটিতে পাহাড়ে যেতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু আপাতত হিমালয়ের পথ এড়াতে চাইছেন? তা হলে দেশের অন্য প্রান্তের কয়েকটি শৈলশহর রাখতে পারেন ভ্রমণের তালিকায়।
হিমালয়ের তুষারঢাকা শৃঙ্গ না থাকলেও পশ্চিমঘাট, পূর্বঘাট কিংবা অরাবলী পর্বতমালার কোলে রয়েছে অসাধারণ কিছু গন্তব্য। প্রকৃতি, পাহাড়, ঝরনা, হ্রদ আর মনোরম আবহাওয়া— সব মিলিয়ে পুজোর ছুটিতে বেশ জমে যেতে পারে সফর।
১. কোডগু, কর্নাটক
কুর্গ নামেই বেশি পরিচিত কর্নাটকের কোডগু। পশ্চিমঘাটের সবুজ পাহাড়, কুয়াশা, আঁকাবাঁকা রাস্তা, ঝরনা এবং পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে থাকা কফি বাগান এই জায়গার মূল আকর্ষণ।
কোডগুর গুরুত্বপূর্ণ শহর মাদিকেরীকে কেন্দ্র করে ঘুরে নিতে পারেন ভাগমণ্ডল, তলাকাবেরী, দুবারে এলিফ্যান্ট ক্যাম্প, নামড্রোলিং মনাস্ট্রি এবং অ্যাবি জলপ্রপাত। পুজোর সময় আবহাওয়াও বেশ মনোরম থাকে।
যাতায়াত: মাইসুরু জংশন থেকে মাদিকেরী প্রায় ১২০ কিলোমিটার। বাস বা গাড়িতে যাওয়া যায়। মঙ্গলুরু বিমানবন্দর থেকেও সড়কপথে পৌঁছনো সম্ভব।
২. কোডাইকানাল, তামিলনাড়ু
‘পাহাড়ের রাজকন্যা’ নামে পরিচিত কোডাইকানাল পশ্চিমঘাটের আর এক মনোরম ঠিকানা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই শহরে রয়েছে সবুজ পাহাড়, শান্ত হ্রদ, পাইন বন এবং ছবির মতো গ্রাম।
কোডাইকানাল লেকের ধারে সময় কাটানোর পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন সিলভার ক্যাসকেড জলপ্রপাত, কোকার্স ওয়াক, পাইন ফরেস্ট এবং গুণা কেভস।
যাতায়াত: মাদুরাই থেকে কোডাইকানাল প্রায় ১২০ কিলোমিটার। মাদুরাই বা কোয়েম্বত্তূর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে যাওয়া যায়। নিকটতম রেলস্টেশন কোডাইকানাল রোড।
৩. মুন্নার, কেরল
পাহাড়, চা-বাগান, উপত্যকা আর ঝরনায় ঘেরা মুন্নার যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য তৈরি। মুথিরাপ্পুঝা, নাল্লাথান্নি এবং কুণ্ডলা— তিন পাহাড়ি নদীর মিলনস্থলে গড়ে উঠেছে এই শৈলশহর।
মাটুপেট্টি জলাধার, চিন্নাকানাল এবং এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান ঘুরে দেখতে পারেন। মুন্নার ভাল করে উপভোগ করতে অন্তত তিন-চার দিন হাতে রাখা ভাল। স্থানীয় চকোলেটও অবশ্যই চেখে দেখতে পারেন।
যাতায়াত: বিমানে কোচি বা ট্রেনে এরনাকুলম পৌঁছে সেখান থেকে গাড়িতে মুন্নার। দূরত্ব প্রায় ১২০-১২৫ কিলোমিটার।
৪. দেওমালি, ওড়িশা
পূর্বঘাটের কোলে অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি গন্তব্য দেওমালি। কোরাপুট জেলার এই পাহাড়ি এলাকায় মেঘ-কুয়াশা, সবুজ উপত্যকা, ঝরনা এবং জলাধার মিলিয়ে তৈরি হয়েছে অন্য রকম পরিবেশ।
ডুডুমা জলপ্রপাত, মাচকুণ্ড, কোলাব ড্যাম এবং শবর শ্রীক্ষেত্র ঘুরে দেখতে পারেন।
যাতায়াত: হাওড়া থেকে সম্বলেশ্বরী এক্সপ্রেসে কোরাপুট পৌঁছে সড়কপথে দেওমালি যাওয়া যায়। ভুবনেশ্বর থেকেও গাড়িতে যাওয়া সম্ভব।
৫. মাউন্ট আবু, রাজস্থান
অরাবলী পর্বতমালার কোলে রাজস্থানের একমাত্র শৈলশহর মাউন্ট আবু। রাজ্যের অন্য এলাকার তুলনায় এখানকার আবহাওয়া অনেকটাই আরামপ্রদ। অক্টোবরে সন্ধ্যার পর হালকা ঠান্ডার আমেজও পাওয়া যায়।
পাহাড়ঘেরা নাক্কি লেক, অপূর্ব কারুকাজের দিলওয়াড়া জৈন মন্দির, অচলগড় দুর্গ এবং অর্বুদা মন্দির ঘুরে দেখতে পারেন। পাহাড়ে বেড়ানোর পাশাপাশি ইতিহাস ও স্থাপত্যের স্বাদও মিলবে এখানে।
হিমালয়ের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পুজোর সফর নিয়ে যদি মনে সংশয় থাকে, তবে এই পাঁচটি গন্তব্য বিকল্প হিসেবে ভাবা যেতেই পারে। তবে যে কোনও পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়া, রাস্তার পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভ্রমণ-সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেখে নেওয়াই নিরাপদ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।