পিত্তথলির বদলে অ্যাপেনডিক্স বাদ? মন্ত্রীর ব্যাখ্যাতেও ‘ধোঁয়াশা’, ফের সরব কুণাল

মন্ত্রীর ব্যাখ্যাতেও ‘ধোঁয়াশা’, ফের সরব কুণাল কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের বদলে অ্যাপেনডিক্স বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক থামছে না। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগকে ‘অসত্য’ বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত…

September 2, 2026
1 min read

মন্ত্রীর ব্যাখ্যাতেও ‘ধোঁয়াশা’, ফের সরব কুণাল

কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের বদলে অ্যাপেনডিক্স বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক থামছে না। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগকে ‘অসত্য’ বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। কিন্তু তাতেও পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়নি বলে দাবি বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের। তাঁর কথায়, ঘটনায় এখনও ‘ধোঁয়াশা’ রয়েছে। একই সঙ্গে রোগীর আর্থিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরে তাঁর চিকিৎসার খরচে সরকারি সাহায্যের আর্জিও জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত গত জুলাইয়ে। পেটে ও বুকে ব্যথা নিয়ে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বেলেঘাটার বাসিন্দা গোপাল পোড়েল। পরিবারের দাবি, ইউএসজি পরীক্ষায় তাঁর পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়েছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারে নাকি পিত্তথলির বদলে অ্যাপেনডিক্স বাদ দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার কয়েক দিন পর ফের পেটে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয় তাঁর।

এর পর গোপালকে উল্টোডাঙার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসার জন্য প্রায় দু’লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যায় বলে পরিবার জানিয়েছে। পেশায় ১০০ দিনের কাজের কর্মী গোপালের পক্ষে সেই খরচ বহন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সল্টলেকের করুণাময়ী এলাকার একটি হাসপাতালে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডের মাধ্যমে তাঁর চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার হয়।

বিষয়টি জানার পর কুণাল সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সোমবার নিজের বিধানসভা এলাকার ওই বাসিন্দার শারীরিক ও আর্থিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও দেন তিনি। তাঁর দাবি, চিঠি পাওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ করে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর। নবান্নের তরফে গোপালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তাঁকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়েও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এ জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কুণাল।

অন্য দিকে, অভিযোগ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অন্য ছবি উঠে এসেছে। তাঁর দাবি, গোপাল অ্যাপেনডিক্সের সমস্যার কারণেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর গলব্লাডারে পাথর থাকলেও সেখানে সংক্রমণের মাত্রা ছিল না। ফলে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরে তার বায়োপসিও করা হয়েছিল।

মন্ত্রীর বক্তব্য, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হয়েছে এবং কুণাল ঘোষকে তিনি নিজেই ফোন করে বিস্তারিত জানিয়েছেন। প্রয়োজন হলে তদন্তের রিপোর্টও তাঁকে দেওয়া হবে।

তবে বুধবার কুণাল বলেন, “এনআরএস-এ যা হয়েছে, তাতে ধোঁয়াশা রয়েছে।” যদিও একই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। অর্থাৎ চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের অভিযোগ এবং হাসপাতালের তদন্তে উঠে আসা ব্যাখ্যার মধ্যে যে ফারাক রয়েছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন বিধায়ক।

এদিকে, আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস পেয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন গোপালও। তাঁর দাবি, শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি চিকিৎসার খরচে তিনি কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। কুণাল তাঁর হয়ে দরবার করায় মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সরকারি তরফে বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার নথিপত্রও চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোপাল।

ফলে এক দিকে চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগের তদন্তের ব্যাখ্যা, অন্য দিকে রোগীর চিকিৎসার খরচ মেটানোর উদ্যোগ— দুই বিষয়কে ঘিরেই এখন নজর রয়েছে এই ঘটনায়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *