পিছিয়ে পড়েও শেষ ষোলোয় ব্রাজিল, জাপানের লড়াইয়ে ফুটে উঠল পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দুর্বলতা

পিছিয়ে পড়েও শেষ ষোলোয় ব্রাজিল! বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ব্রাজিল। তবে জয়টা মোটেও সহজ ছিল না। জাপানের বিরুদ্ধে টানটান লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো…

June 30, 2026
1 min read

পিছিয়ে পড়েও শেষ ষোলোয় ব্রাজিল!

বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ব্রাজিল। তবে জয়টা মোটেও সহজ ছিল না। জাপানের বিরুদ্ধে টানটান লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল কার্লো আনচেলোত্তির দল। জয়ের নায়ক গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি হলেও ম্যাচের বড় প্রাপ্তি জাপানের দুরন্ত লড়াই, আর ব্রাজিলের জন্য বড় শিক্ষা তাদের একাধিক দুর্বলতা।

ম্যাচের শুরু থেকেই জাপান বুঝিয়ে দেয় তারা কোনও অংশে ভয় পেয়ে মাঠে নামেনি। গতি, আগ্রাসন এবং নির্ভুল প্রেসিংয়ে ব্রাজিলকে বারবার চাপে ফেলে দেয় এশিয়ার দলটি। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে প্রায় ৪০ গজ দৌড়ে গোল করে জাপানকে এগিয়ে দেন কাইশু সানো। সেই সময় ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোও তাঁকে আটকাতে ব্যর্থ হন।

প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে অস্বস্তিতে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে জাপান কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। সেই সুযোগই কাজে লাগায় ব্রাজিল। ৫৩ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের ক্রস থেকে কাসেমিরোর হেড অল্পের জন্য গোল হয়নি। পরে সেই কাসেমিরোই সমতা ফেরান। ম্যাচের শেষ দিকে দানিলো, এনদ্রিক এবং ব্রুনো গিমারায়েসের দারুণ সমন্বয়ে বল পৌঁছে যায় মার্তিনেল্লির কাছে। সুযোগ নষ্ট না করে জয়সূচক গোল করে ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয় তুলে দেন তিনি।

জয় এলেও ব্রাজিলের আক্রমণভাগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। কোচ আনচেলোত্তির হাতে একাধিক বিকল্প থাকলেও প্রথম একাদশের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রায়ানকে শুরু থেকে খেলানোর সিদ্ধান্ত খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। বরং এনদ্রিক বা মার্তিনেল্লির মতো আক্রমণাত্মক ফুটবলারদের শুরু থেকেই খেলানো হলে ব্রাজিল আরও কার্যকর হতে পারত। লুই এনরিকের মতো ফুটবলারও বেঞ্চে বসে থাকায় প্রশ্ন উঠেছে।

এই ম্যাচে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে— ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে আটকে দিতে পারলে ব্রাজিলের আক্রমণের ধার অনেকটাই কমে যায়। জাপান পরিকল্পিত ভাবে ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে ধরে তাঁর খেলার জায়গা সংকুচিত করে দেয়। ফলে তিনি স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি। আগামী ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষও একই কৌশল নিতে পারে। তাই শুধু ভিনিসিয়ুসের উপর নির্ভর করলে চলবে না, অন্যদেরও গোল করার দায়িত্ব নিতে হবে।

অভিজ্ঞ কাসেমিরো গোল করলেও মাঝমাঠে তাঁর আগের প্রভাব আর দেখা যায়নি। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে তিনি বারবার পিছিয়ে পড়েন। লুকাস পাকুয়েতার চোট পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে। ফাবিনহোকে আরও আগে নামানো হলে হয়তো মাঝমাঠে ভারসাম্য ফিরতে পারত।

অন্য দিকে, হারলেও জাপান প্রশংসা কুড়িয়েছে তাদের সাহসী ফুটবলের জন্য। গত কয়েক বছরে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা। ব্রাজিলের মতো পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে দীর্ঘ সময় চাপে রেখে তারা আবারও প্রমাণ করল, ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টে জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল জয় পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই ম্যাচ বুঝিয়ে দিল ট্রফির লড়াইয়ে এগোতে হলে আনচেলোত্তির দলকে নিজেদের দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতেই হবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *