পাণ্ডবাণীর কিংবদন্তি তীজন বাঈ আর নেই!
ভারতীয় লোকসংগীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের অবসান হল। পাণ্ডবাণী ধারার কিংবদন্তি শিল্পী তীজন বাঈ রবিবার রায়পুরের এইমস হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সঙ্গীত ও সংস্কৃতি জগতে।
গত ২৭ মে শ্বাসকষ্ট ও অতিরিক্ত দুর্বলতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা প্রথম থেকেই জানিয়েছিলেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। টানা চিকিৎসার পরেও শেষরক্ষা হল না।
পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত এই শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, তীজন বাঈ তাঁর অনন্য পরিবেশনার মাধ্যমে ছত্তীসগঢ়ের ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডবাণী শিল্পকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দিয়েছিলেন। তাঁর প্রয়াণ ভারতীয় শিল্প ও সংস্কৃতির জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি সমবেদনাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইও তীজন বাঈকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, রাজ্যের লোকসংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর ভাষায়, তীজন বাঈ শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি ছিলেন ছত্তীসগঢ়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম মুখ।
রাজ্যের মন্ত্রী কেদার কাশ্যপও শোকবার্তায় বলেন, তীজন বাঈয়ের মৃত্যু শুধু ছত্তীসগঢ় নয়, সমগ্র দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরের জন্য বড় ক্ষতি। তিনি আজীবন নিজের শিল্পের মাধ্যমে দেশের ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন।
তীজন বাঈ ছিলেন পাণ্ডবাণী লোকশিল্পের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিবেশক। মহাভারতের কাহিনি গান, আবৃত্তি, নাটকীয় অভিব্যক্তি ও অভিনয়ের মিশেলে পরিবেশন করার এই প্রাচীন শিল্পধারাকে তিনি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর কণ্ঠ, মঞ্চ উপস্থিতি এবং স্বতন্ত্র পরিবেশনভঙ্গি দেশ-বিদেশে অসংখ্য দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
গ্রামের মাটির শিল্পকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে তীজন বাঈয়ের অবদান ভারতীয় লোকসংস্কৃতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে একটি যুগের অবসান হলেও, তাঁর শিল্প আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?