পাকিস্তানকে মার্কিন সামরিক ড্রোন!
পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন করে সমঝোতা করল একটি মার্কিন ড্রোন প্রস্তুতকারী সংস্থা। ‘পাওয়ারাস’ নামে ওই সংস্থা পাকিস্তান সেনার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক বা মউ-তে সই করেছে। সেই চুক্তির আওতায় প্রাথমিক ভাবে ড্রোন-সংক্রান্ত একটি বরাতও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ। তবে কতগুলি ড্রোন বা চুক্তির আর্থিক মূল্য কত, তা এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পাওয়ারাসের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। তার পরেই মউ স্বাক্ষরের বিষয়টি সামনে আসে। পাওয়ারাস জানিয়েছে, চুক্তিটি মূলত ‘আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস’ বা পাইলটবিহীন উড়ন্ত যান সংক্রান্ত। নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে বরাতের সংখ্যা, ড্রোনের নির্দিষ্ট ধরন এবং মূল্য জানানো হয়নি।
এই চুক্তির সঙ্গে আরও একটি কারণে তৈরি হয়েছে আগ্রহ। পাওয়ারাস শীঘ্রই ‘অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংস’-এর সঙ্গে একীভূত হতে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প ‘আমেরিকান ভেঞ্চারস’ নামের একটি বিনিয়োগ সংস্থার মাধ্যমে অরিয়াসে অংশীদার। নিয়ন্ত্রক নথি অনুযায়ী, একীভূত সংস্থায় তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের মালিকানা প্রায় ৯.৯ শতাংশ হতে পারে। দুই সংস্থাই জানিয়েছে, অক্টোবরের গোড়ার দিকে একীভবন সম্পন্ন হওয়ার কথা।
তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। ট্রাম্প-পুত্রদের বিনিয়োগের সঙ্গে পাওয়ারাসের আসন্ন একীভবনের যোগ থাকলেও, তাঁরা এই চুক্তি বা সংস্থার দৈনন্দিন পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি সংস্থাটির পরিচালনা বা আমেরিকা কিংবা বিদেশে বরাত পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা রাখেননি। পাওয়ারাসের কর্ণধার অ্যান্ড্রু ফক্সও দাবি করেছেন, সংস্থার ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে ট্রাম্প-পুত্রদের কোনও প্রভাব নেই। হোয়াইট হাউসের তরফেও স্বার্থের সংঘাত নেই বলে জানানো হয়েছে।
মউটি শুধু ড্রোন সরবরাহেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। পাওয়ারাসের তরফে পাকিস্তানে প্রযুক্তি তৈরি এবং ভবিষ্যতে যৌথ প্রযুক্তিগত উদ্যোগের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। সংস্থার বক্তব্য, আমেরিকার প্রযুক্তির সঙ্গে পাকিস্তানের স্থানীয় সক্ষমতাকে যুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা গড়ে তোলাই লক্ষ্য।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীও পাওয়ারাসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আসিম মুনিরের বৈঠকের কথা জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা, উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় ছিল। তবে পাকিস্তানের সরকারি বিবৃতিতে মউ স্বাক্ষরের বিষয়টি আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
ফলে আপাতত নিশ্চিত তথ্য হল—পাওয়ারাস ও পাকিস্তান সেনার মধ্যে মউ হয়েছে এবং প্রাথমিক ড্রোন-সংক্রান্ত বরাতও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বরাতের অঙ্ক, নির্দিষ্ট অস্ত্রব্যবস্থার বিবরণ এবং ভবিষ্যৎ উৎপাদন সহযোগিতার পরিধি এখনও স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে ট্রাম্প-পুত্রদের বিনিয়োগের বিষয়টি চুক্তিকে বাড়তি রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নজরের কেন্দ্রে এনেছে, যদিও তাঁদের সরাসরি চুক্তি করানোর ভূমিকার প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।