পাকিস্তানকে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ড্রোন দিচ্ছে আজ়ারবাইজান, ভারতের আর্মেনিয়া নীতির পাল্টা চাল?

পাকিস্তানকে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ড্রোন দিচ্ছে আজ়ারবাইজান! ভারতের সঙ্গে আর্মেনিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আবহে পাকিস্তানকে সামরিক ড্রোন সরবরাহ করছে আজ়ারবাইজান। পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিটি-০০১, এফ-১৫০০ এবং এফ-৫০০০ নামের তিন ধরনের অস্ত্রের…

October 12, 2026
1 min read

পাকিস্তানকে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ড্রোন দিচ্ছে আজ়ারবাইজান!

ভারতের সঙ্গে আর্মেনিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আবহে পাকিস্তানকে সামরিক ড্রোন সরবরাহ করছে আজ়ারবাইজান। পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিটি-০০১, এফ-১৫০০ এবং এফ-৫০০০ নামের তিন ধরনের অস্ত্রের বরাত দিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। সরবরাহও শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের পিছনে কি নয়াদিল্লির আর্মেনিয়া নীতির পাল্টা কৌশল রয়েছে? সেই প্রশ্ন ঘিরেই শুরু হয়েছে আলোচনা।

কী ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে পাকিস্তান?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ়ারবাইজানের প্রতিরক্ষা সংস্থা ডেফটেক—যা ‘ব্ল্যাকইয়ার্ড’ নামেও পরিচিত—এই অস্ত্রগুলি তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের আজ়ারবাইজান আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে প্রথম প্রকাশ্যে আসে ডিটি-০০১ ড্রোন। সংস্থাটির দাবি, এটি তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি।

ডিটি-০০১ একটি স্থির ডানাযুক্ত চালকবিহীন যান। নজরদারি ও হামলা, দুই কাজেই ব্যবহার করা যায় বলে দাবি নির্মাতাদের। ড্রোনটির ওজন প্রায় ৭৫ থেকে ১২০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ৪০ কেজি পর্যন্ত সরঞ্জাম বা বিস্ফোরক বহন করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পেট্রলচালিত ইঞ্জিনের সাহায্যে এটি পাঁচ থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত উড়তে পারে।

ড্রোনটির সঙ্গে যুক্ত করা যায় এফ-১৫০০ ও এফ-৫০০০ শ্রেণির লয়টারিং মিউনিশন বা লক্ষ্য খুঁজে নিয়ে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্র। সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, ডিটি-০০১ একসঙ্গে দু’টি এফ-১৫০০ অথবা একটি এফ-৫০০০ বহন করতে পারে। এফ-১৫০০-তে লক্ষ্য শনাক্ত করার জন্য ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর রয়েছে বলে নির্মাতা সংস্থার ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে। এফ-৫০০০ আবার সাঁজোয়া যান ও ছোট সেনাদলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উপযোগী বলে দাবি করা হয়।

তবে পাকিস্তানকে কতগুলি ড্রোন দেওয়া হচ্ছে এবং এই প্রতিরক্ষা চুক্তির আর্থিক মূল্য কত, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

ভারত-আর্মেনিয়া সম্পর্কই কি কারণ?

আর্মেনিয়া ও আজ়ারবাইজানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই অস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশ। দুই দেশের মধ্যে নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে সংঘাতের পর আর্মেনিয়া ভারতের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা বাড়িয়েছে। নয়াদিল্লি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ট্যাঙ্কবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, কামান, রকেট লঞ্চার ও রেডার-সহ একাধিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ভারতের তৈরি আকাশ-১এস, পিনাকা রকেট ব্যবস্থা, উন্নত কামান এবং স্বাতী রেডারের মতো সরঞ্জাম রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কিছু ভারতীয় অস্ত্র কেনার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আজ়ারবাইজানের পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহকে পাল্টা কৌশল হিসেবে দেখছেন কয়েক জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা। তাঁদের মতে, কাশ্মীর প্রশ্নে আজ়ারবাইজান অতীতে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। অন্য দিকে, আর্মেনিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্কও ক্রমশ জোরদার হয়েছে। তবে ড্রোন সরবরাহের সিদ্ধান্তের পিছনে ভারত-আর্মেনিয়া সম্পর্কই একমাত্র কারণ, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

ভারতের কি উদ্বেগের কারণ রয়েছে?

ডিটি-০০১ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি এর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কিছু অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা। তাঁদের দাবি, ড্রোনটির পাল্লা সীমিত এবং ভারতের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালানোর ক্ষমতা কতটা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ২০২৪ সালে প্রকাশ্যে এলেও ড্রোনটির যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই বলেও তাঁরা মনে করেন।

অন্য দিকে, পাকিস্তানের অস্ত্রভান্ডারের বড় অংশ চিনের সরবরাহের উপর নির্ভরশীল। তুরস্কের কাছ থেকেও সামরিক ড্রোন পেয়েছে ইসলামাবাদ। আজ়ারবাইজানের নতুন সরবরাহ পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে অস্ত্রগুলির বাস্তব কার্যকারিতা ও ব্যবহারের উপর।

ভারতও দেশীয় প্রযুক্তিতে সামরিক ড্রোন তৈরির উপর জোর দিচ্ছে। ফলে আজ়ারবাইজানের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সমীকরণে কতটা পরিবর্তন আনে, তা বোঝার জন্য আরও তথ্য ও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *