পাঁচ গোল ইস্টবেঙ্গলের, কষ্টের জয়ে মোহনবাগান— ক্রীড়ামন্ত্রীর উপস্থিতিতে জমে উঠল কলকাতা লিগ

পাঁচ গোল ইস্টবেঙ্গলের, কষ্টের জয়ে মোহনবাগান! কলকাতা ফুটবল লিগে একই দিনে জয়ের মুখ দেখল দুই প্রধান— ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। তবে জয় এল সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই চিত্রে। এক দিকে ইস্টবেঙ্গল দুরন্ত…

July 28, 2026
1 min read

পাঁচ গোল ইস্টবেঙ্গলের, কষ্টের জয়ে মোহনবাগান!

কলকাতা ফুটবল লিগে একই দিনে জয়ের মুখ দেখল দুই প্রধান— ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। তবে জয় এল সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই চিত্রে। এক দিকে ইস্টবেঙ্গল দুরন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলিয়ে প্রতিপক্ষকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল। অন্য দিকে মোহনবাগান অসংখ্য সুযোগ নষ্ট করেও ইউনাইটেড স্পোর্টসকে মাত্র ১-০ গোলে হারিয়ে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করল। এই ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে উপভোগ করেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।

মোহনবাগান দিবসের আগের দিন সবুজ-মেরুন ক্লাবে উপস্থিত হন ক্রীড়ামন্ত্রী। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানান ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্ত ও সচিব সৃঞ্জয় বসু। তাঁদের সঙ্গেই গ্যালারিতে বসে পুরো ম্যাচ দেখেন তিনি।

অন্য দিকে, পাঠচক্রের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখায় ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের মাত্র পাঁচ মিনিটে বিজয় মুর্মুর বাড়ানো বল থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আকাশ হেমব্রম। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই সমতা ফেরায় পাঠচক্র। কিন্তু সেই ধাক্কা লাল-হলুদ শিবিরকে টলাতে পারেনি।

২১ মিনিটে আবারও অ্যাসিস্ট করেন বিজয়। তাঁর নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন উত্তম হাঁসদা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আরও একটি গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন উত্তম। ফলে বিরতিতে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে তারা। ৬২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান আকাশ। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে মহম্মদ বিলাল গোল করে ৫-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন। কলকাতা লিগে টানা চার ম্যাচ জিতে দুরন্ত ছন্দে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল।

অন্য ম্যাচে ইউনাইটেড স্পোর্টসের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল মোহনবাগান। কিন্তু গোলের সামনে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেন সুহেল আহমেদ ভাট। তাঁর একাধিক সহজ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সবুজ-মেরুন শিবির।

তবে প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দারুণ পাস থেকে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন সুহেল। সুযোগের নিরিখে হ্যাটট্রিকও হতে পারত তাঁর, কিন্তু ফিনিশিংয়ে বারবার ব্যর্থ হন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধে ইউনাইটেড স্পোর্টসও ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। ৮০ মিনিটে পেনাল্টি পেলেও বিদ্যাসাগর সিংহ তা কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর ৮৭ মিনিটে সায়নকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন অমিত টুডু। ম্যাচের শেষ দিকে জবি জাস্টিনও লাল কার্ড দেখেন। একটি গোল বাতিল হওয়া-সহ কয়েকটি রেফারিং সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মোহনবাগানের কোচ বাস্তব রায়।

ম্যাচ শেষে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, মোহনবাগান শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের গর্ব। ভারতীয় ফুটবলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিত করে তুলতে ক্লাবটির অবদান অনস্বীকার্য। তিনি আরও জানান, মোহনবাগান দিবসকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

এ দিন ডুরান্ড কাপ উপলক্ষে কাগজবিহীন টিকিট ব্যবস্থা ও দর্শকদের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা করার উদ্যোগে ক্রীড়ামন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায় মোহনবাগান কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হেলমেট ও ছাতা রাখার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বসু বলেন, বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রীর সহযোগিতায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই একাধিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *