পঞ্চমী থেকে দশমী ‘ভাড়া’ প্রেম! !
পঞ্চমীর সন্ধ্যায় শুরু, দশমীর বিসর্জনে শেষ। সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে না, শুধু পুজোর ক’টা দিন একসঙ্গে ঠাকুর দেখা, মণ্ডপে ঘোরা, রেস্তরাঁয় খাওয়া আর ছবি তোলা—সঙ্গী মিলবে তার জন্যও! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সমাজমাধ্যমে এখন এমনই নানা পোস্ট চোখে পড়ছে। নাম দেওয়া হচ্ছে ‘রেন্টাল পার্টনার’ বা ‘পুজো পারপাসে’ সঙ্গী।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কেউ কয়েক দিনের জন্য পুজো দেখার সঙ্গী খুঁজছেন, কেউ আবার পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শহর ঘোরানোর প্রস্তাব দিচ্ছেন। কোথাও সরাসরি ফোন নম্বর, কোথাও আবার কমেন্টেই শুরু হয়ে যাচ্ছে কথাবার্তা। তবে এই ধরনের পোস্টের সত্যতা বা নিরাপত্তা যাচাই না করে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেটাও মনে রাখা জরুরি।
পুজোর চার দিনেই কেন সঙ্গী?
ধরুন, আপনার বন্ধুরা সবাই জোড়ায় জোড়ায় বেরিয়েছেন। সপ্তমীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার মণ্ডপ ঘুরতে আপনারও ইচ্ছে করছে, কিন্তু একা যেতে মন চাইছে না। কিংবা অষ্টমীতে নতুন পোশাকে ছবি তুলবেন—ছবি তোলার লোক আছে, কিন্তু ফ্রেমে পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। বাড়ি থেকেও প্রশ্ন আসছে, ‘‘পুজোয় কোথায় যাচ্ছ? কার সঙ্গে?’’
এই জায়গাতেই ‘ভাড়া করা সঙ্গী’র ভাবনা। কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের জন্য কাউকে সঙ্গে নিয়ে ঠাকুর দেখা, শহর ঘোরা, খাওয়াদাওয়া বা ছবি তোলা—তার পর যে যার জীবনে ফিরে যাওয়া। প্রেমের প্রতিশ্রুতি নেই, সম্পর্কের দায়ও নেই।
‘রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড’, ‘রেন্টাল গার্লফ্রেন্ড’!
কেবল পুজো নয়, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সঙ্গী ভাড়া করার ধারণা বিশ্বের নানা জায়গায় রয়েছে। কোথাও সিনেমা দেখতে, কোথাও কেনাকাটা করতে, আবার কোথাও নিছক গল্প করার জন্যও সঙ্গী নেওয়ার পরিষেবা চালু রয়েছে।
জাপানে এই ধরনের পরিষেবা বেশ পরিচিত। পেশাদার সংস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নারী বা পুরুষ সঙ্গী বুক করা যায়। কফি খাওয়া, শহর ঘোরা, শপিং কিংবা কোনও অনুষ্ঠানে যাওয়া—পরিষেবার ধরন অনুযায়ী সময় ও খরচ নির্ধারিত হয়। তবে এই ধরনের পেশাদার পরিষেবায় ব্যক্তিগত সীমারেখা স্পষ্ট থাকে এবং শারীরিক সম্পর্কের সুযোগ থাকে না।
কলকাতাতেও অবশ্য সমাজমাধ্যমে উৎসবকেন্দ্রিক সঙ্গী খোঁজার প্রবণতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কেউ লিখছেন, ‘‘পুজোর ক’টা দিন শহরে থাকব, সঙ্গে ঠাকুর দেখার কেউ আছেন?’’ কেউ আবার খুঁজছেন এমন একজনকে, যাঁর পুজোর উন্মাদনা তাঁর মতোই।
পুজোর প্রেম, নাকি নিছক সঙ্গ?
আসলে এই প্রবণতার নেপথ্যে একাকিত্ব যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে উৎসবের সামাজিক চাপও। পুজোয় সবাই যখন বন্ধু বা সঙ্গীর সঙ্গে ছবি তুলছেন, ঘুরছেন, তখন একা থাকা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। সেই জায়গা থেকেই কয়েক দিনের জন্য ‘দোকা’ হওয়ার পরিকল্পনা।
তবে অনলাইনে অচেনা কাউকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। পরিচয় যাচাই, প্রকাশ্য জায়গায় দেখা করা, ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়া এবং আর্থিক লেনদেনে সাবধান থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চমীতে যে সম্পর্কের শুরু, তা দশমীতে শেষ হতেই পারে। আবার কখনও সেই চার দিনের গল্পই হয়তো অন্য কোনও গল্পের শুরু। পুজোর ‘সঙ্গী’ শেষ পর্যন্ত প্রেমিক বা প্রেমিকা হবেন কি না, তার উত্তর অবশ্য ঠাকুর দেখার ভিড়েই মিলবে!
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।