নেপালি ভাষার সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি বিমল গুরুংয়ের, পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সে দ্বিভাষিক প্রশাসনের প্রস্তাব

নেপালি ভাষার সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি বিমল গুরুংয়ের! রাজ্য সরকারের সব দফতরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার ঘোষণার পরই নতুন একটি ভাষাগত দাবি সামনে আনলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি…

July 20, 2026
0 min read

নেপালি ভাষার সরকারি স্বীকৃতির দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি বিমল গুরুংয়ের!

রাজ্য সরকারের সব দফতরে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার ঘোষণার পরই নতুন একটি ভাষাগত দাবি সামনে আনলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লেখা চিঠিতে তিনি দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের সরকারি কাজকর্মে বাংলার পাশাপাশি নেপালি ভাষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

গুরুংয়ের দাবি, ওই তিন অঞ্চলের সরকারি ফর্ম, আবেদনপত্র, বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি চিঠিপত্র যেন নেপালি ভাষাতেও প্রকাশ করা হয়। তাঁর মতে, এতে সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক পরিষেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং ভাষাগত কারণে কেউ যাতে অসুবিধায় না পড়েন, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

চিঠিতে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে ভাষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেপালি ভাষাকেও সরকারি যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।

গুরুং উল্লেখ করেন, নেপালি ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলভুক্ত একটি স্বীকৃত ভাষা। দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক গোর্খা মানুষের মাতৃভাষা নেপালি। তাঁদের অনেকেই বাংলা ভাষায় পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ নন। ফলে সরকারি নথি বা আবেদনপত্র শুধুমাত্র বাংলায় থাকলে সাধারণ মানুষের নানা প্রশাসনিক কাজে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

তাঁর মতে, সরকারি পরিষেবা তখনই প্রকৃত অর্থে জনমুখী হয়, যখন তা মানুষের ভাষায় পৌঁছায়। তাই নেপালি ভাষায় সরকারি নথি ও নির্দেশিকা উপলব্ধ থাকলে প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনের ভাবনাও আরও শক্তিশালী হবে।

চিঠিতে গুরুং আরও অনুরোধ জানিয়েছেন, দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্সের সরকারি দফতরগুলিতে বাংলার পাশাপাশি নেপালি ভাষায় সরকারি ফর্ম, আবেদনপত্র ও সরকারি পত্রালাপ চালুর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জারি করা হোক। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ শুধু সাংবিধানিক মর্যাদাপ্রাপ্ত একটি ভাষার প্রতি সম্মানই জানাবে না, বরং ওই অঞ্চলের মানুষের প্রশাসনিক অধিকারও আরও সুদৃঢ় করবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি চিঠির প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার সরকারি কাজকর্মে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমল গুরুংয়ের এই আবেদন নতুন করে ভাষা ও প্রশাসনিক নীতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের জন্য নেপালি ভাষার সরকারি ব্যবহারের বিষয়ে রাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *