নিশানায় অভিষেক, মমতাকেই ‘পরামর্শদাতা’ চাইলেন ঋতব্রত!!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় চমক এনে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার আসনে বসলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের মাত্র এক মাসের মাথায় তৃণমূলের অন্দরে প্রকাশ্য বিভাজন সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বুধবার ঋতব্রতের সমর্থনে ৫৮ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেন। পরে আরও দু’জনের সমর্থনের দাবি করে ঋতব্রত জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন। সেই ভিত্তিতেই স্পিকার তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। একই সঙ্গে নতুন উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতকের নামও অনুমোদিত হয়।
তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, নতুন শিবির গড়লেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা এখনও নিজেদের নেত্রী বলেই মানছেন। ঋতব্রত প্রকাশ্যে মমতাকে পরিষদীয় দলের “পরামর্শদাতা” হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের কোনও রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর ঋতব্রত বলেন, তাঁরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চান। সরকারের ভুলের বিরোধিতা যেমন করবেন, তেমনই জনস্বার্থে ভাল কাজের প্রশংসাও করবেন। তাঁর কথায়, “আমি বস নই, আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেব।”
এই ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত হয়েছিল বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের তরফে স্পিকারের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার পরই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু বহিষ্কারের মাত্র দু’দিন পরেই দেখা গেল, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন তাঁদের দিকেই ঝুঁকেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনাই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল বলেই সূত্রের দাবি।
এদিকে পরিষদীয় দলে এই অস্থিরতার মধ্যেই সাংগঠনিক স্তরেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। রাজ্যের সমস্ত দলীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করেছে দল। নতুন করে সংগঠন সাজানোর লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সম্ভাব্য ভাঙন রুখতে এবং সংগঠনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করতেই এই সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিদ্রোহী ও মমতা-ঘনিষ্ঠ— দুই শিবিরের নেতাদের উপস্থিতি নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়েই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।
একদিকে মমতার প্রতি আনুগত্যের দাবি, অন্যদিকে অভিষেকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান— এই দ্বৈত বার্তার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী শিবিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?