নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে নদীতে ঝাঁপ!
কাশ্মীরের কুলগাম। চারপাশে পাহাড়, ঘন জঙ্গল আর মাঝে বয়ে চলেছে স্রোতস্বিনী নদী। সেই নদীতেই হঠাৎ ঝাঁপ! জঙ্গিদের ঘাঁটির খোঁজ দিতে গিয়ে জীবনটাই হারালেন এক যুবক। ঘটনার পর থেকেই কাশ্মীরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উঠছে নানা প্রশ্ন—যুবক কি নিজেই পালাতে চেয়েছিলেন? নাকি ঘটনার পেছনে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনও রহস্য?
মৃত যুবকের নাম ইমতিয়াজ আহমেদ মাগরে, বয়স মাত্র ২৩। কুলগামেরই বাসিন্দা ইমতিয়াজকে নিরাপত্তা বাহিনী গত শনিবার গ্রেফতার করেছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি এলাকায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের সাহায্য করতেন—তাঁদের কাছে খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দিতেন। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ইমতিয়াজ নিজেই স্বীকার করেন এই কথা। এমনকি জানান, জঙ্গিদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিতও।
পুলিশের পরিকল্পনা ছিল, ইমতিয়াজকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলের ভিতর জঙ্গিদের ঘাঁটি পর্যন্ত যাওয়া। কিন্তু সেখানেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা।
যখন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেই নির্দিষ্ট এলাকায়, আচমকাই নদীর ধারে পৌঁছে ইমতিয়াজ হঠাৎ ঝাঁপ দেন জলে। ধারণা করা হচ্ছে, খরস্রোতা নদী সাঁতরে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রবল স্রোতের সামনে হেরে যান যুবক। নদীতে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো এখন ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, জঙ্গলের ধারে একাই হেঁটে যাচ্ছেন ইমতিয়াজ। আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ চোখে পড়ছে না। আচমকাই তিনি নদীর দিকে তাকিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিছু ক্ষণ জলের সঙ্গে লড়াই করলেও শেষরক্ষা হয়নি।
ভিডিয়োর সত্যতা যদিও এখনো যাচাই করেনি আনন্দবাজার অনলাইন, তবে এই দৃশ্য ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এই মৃত্যু নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। এক্স (টুইটার)-এ তিনি লেখেন, “কুলগামের নদী থেকে আরও একটি দেহ উদ্ধার হল। দুর্নীতির অভিযোগকে আরও দৃঢ় করছে এই ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দু’দিন আগেই ওই যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আর এখন তাঁর দেহ মিলল নদীতে।”
স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই দাবি করেছেন, পুরো ঘটনা পরিকল্পিত হতে পারে। তাঁদের মতে, যদি নিরাপত্তা বাহিনী যুবককে এত গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়ে যাচ্ছিল, তবে তাঁকে কেন একা ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল?
এই মৃত্যুকে ঘিরে এখন কাশ্মীরের জনমানসে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ এবং অসংখ্য প্রশ্ন।
নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনও মন্তব্য আসেনি। তবে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সত্য উদ্ঘাটনের দাবি তুলেছেন বহু কাশ্মীরবাসী।
ইমতিয়াজের মৃত্যু কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও কিছু অজানা কাহিনি—উত্তর খুঁজছে গোটা উপত্যকা।
চোট উপেক্ষা করে সোনা! পুণেতে ঋতু ও প্রতিষ্ঠার জিমন্যাস্টিকে স্বর্ণোজ্জ্বল লড়াই