নিট ইউজি পুনঃপরীক্ষার আগে কড়া নিরাপত্তা!!
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া বসেন নিট ইউজি পরীক্ষায়। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই স্বপ্নের পথেই বড় ধাক্কা খেয়েছেন বহু পরীক্ষার্থী। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট ইউজি পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়ার পর জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ) ঘোষণা করেছে, আগামী ২১ জুন ফের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এই পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে যাতে কোনও রকম বিতর্ক বা অনিয়ম না হয়, সে জন্য একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে এনটিএ। নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে এবং প্রশ্নপ্রণেতাদের পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যত বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। এই সময়ে তাঁদের মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমতি থাকবে না।
তবে প্রশ্ন উঠছে, শুধু এই ব্যবস্থাই কি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা পুরোপুরি রুখতে পারবে?
প্রযুক্তির উপর বাড়তি ভরসা
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে এনটিএ-র বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সংস্থাও নিজেদের ত্রুটির কথা স্বীকার করেছে। বারবার একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় এবার পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে এনটিএ।
সংস্থার অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে ‘জিরো ট্রাস্ট আর্কিটেকচার’ নামে একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনও একক আধিকারিকের উপর সম্পূর্ণ দায়িত্ব না দিয়ে বিভিন্ন ধাপ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ফলে মানবিক ভুল বা দুর্নীতির সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশ্নপত্র তৈরিতেও নতুন কৌশল
প্রশ্নফাঁসের তদন্তে দেখা গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়বিশেষজ্ঞ বা অনুবাদকদের নাম সামনে এসেছে। তাই প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়াতেও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে এনটিএ।
নতুন ব্যবস্থায় প্রশ্ন প্রস্তুতকারীরা জানতেই পারবেন না তাঁদের তৈরি প্রশ্ন কোন পরীক্ষায় ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি একটি কেন্দ্রীয় ‘কোয়েশ্চন ব্যাঙ্ক’ তৈরির ভাবনাও রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রশ্ন সংরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেখান থেকে প্রশ্ন নির্বাচন করা হবে। খুব সীমিত সংখ্যক আধিকারিকই এই ব্যাঙ্কে প্রবেশাধিকার পাবেন।
পুনঃপরীক্ষায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা
২১ জুনের পরীক্ষা ঘিরে কেন্দ্রও কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে পাঁচ লক্ষেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই করতে ব্যবহার করা হবে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি।
এ ছাড়াও প্রশ্নপত্র অনুবাদের কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। যদিও চূড়ান্ত যাচাইয়ের দায়িত্ব বিশেষজ্ঞদের হাতেই থাকবে।
সব মিলিয়ে, প্রশ্নফাঁসের কলঙ্ক মুছে পরীক্ষার প্রতি পড়ুয়াদের আস্থা ফেরাতে এবার সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছে এনটিএ। তবে এতসব পদক্ষেপ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষা শুধু পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের জন্যই নয়, এনটিএ-র বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?