নিউ টাউনের তিন পুজোয় বিজেপির ‘ওজনদার’ মুখ!
কলকাতার দুর্গাপুজোয় এত দিন পুজোকে ঘিরে রাজনৈতিক ‘ওজন’ দেখানোর লড়াইয়ে তৃণমূল নেতাদের নামই বেশি শোনা যেত। নিউ টাউনে এ বার ছবিটা যেন কিছুটা বদলেছে। উপনগরীর তিনটি বড় পুজোয় সামনে এসেছে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ একাধিক পরিচিত মুখ। প্রত্যেক পুজোই নিজেদের মতো করে আলাদা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে মুখে প্রতিযোগিতার কথা অস্বীকার করলেও কে কাকে ছাপিয়ে যাবে, সেই প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।
নিউ টাউনের সিটি স্কোয়্যারে ‘নিউ টাউন সর্বজনীন’ পুজো গত কয়েক বছরে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। এ বার সেই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। দিলীপ রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকায়। পুজো কমিটির সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত করের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর তাঁর সম্মতিও মিলেছে বলে জানানো হয়েছে। পুজোর নানা খুঁটিনাটি দেখভালের দায়িত্বও নিয়েছেন রিঙ্কু। এমনকি মাঠ ব্যবহারের জন্য হিডকোর অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি উদ্যোগী হয়েছেন বলে পুজো কমিটির তরফে দাবি।
মণ্ডপের সামনে সারি সারি নৌকা ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি করেছে। রিঙ্কুর কথায়, এ বারের ভাবনার সঙ্গে পদ্মের যোগ রয়েছে। তবে থিমের পুরো রহস্য এখনই প্রকাশ করতে নারাজ তিনি। দর্শকদের জন্য চমক রেখেই দিতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।
এই পুজোর কিছু দূরেই নিউ টাউন মেলাপ্রাঙ্গণে ‘সনাতনী দুর্গাপুজো’। কয়েক বছর আগে শুরু হওয়া এই পুজো ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হয়নি। এ বার ফের আয়োজন করা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, প্রশাসনিক অসহযোগিতার কারণেই আগের বার পুজো করা সম্ভব হয়নি। এ বার পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন একাধিক পরিচিত মুখ। চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সুব্রত গুপ্ত, প্রধান পৃষ্ঠপোষক ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের স্বামী প্রদীপ্তানন্দ তথা কার্তিক মহারাজ এবং সভাপতি অভিনেতা জর্জ বেকার।
তবে উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে অন্য কোনও পুজোর প্রতিযোগিতা নেই। তাঁদের বক্তব্য, সুব্রত গুপ্ত নিউ টাউনের পরিচিত বাসিন্দা বলেই তাঁকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। কার্তিক মহারাজকে তাঁরা সনাতন ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখেন। জর্জ বেকারকে সভাপতি করার মধ্যেও সকলকে নিয়ে উৎসব করার বার্তা রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
তৃতীয় পুজো ডিবি ব্লকের। বেশ কয়েক বছর ধরেই এই পুজোর সঙ্গে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য অনুপম ঘোষ যুক্ত। এ বার তিনি সভাপতি। যুগ্ম সম্পাদিকার দায়িত্বে তাঁর স্ত্রী প্রমিতা সাহা ঘোষ। তবে পুজোর প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে যুক্ত হয়েছেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী। ডিই ব্লকে তাঁর বাড়ি হলেও সেখানে আলাদা পুজো নেই। ফলে ডিবি ব্লকের পুজোয় তাঁর যুক্ত হওয়া গুরুত্ব বাড়িয়েছে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
ডিবি ব্লকের পুজোর থিম ‘মহাকুম্ভ’। ইনস্টলেশন এবং আলো-শব্দের মাধ্যমে প্রয়াগরাজের কুম্ভমেলার আবহ তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। সমুদ্রমন্থন থেকে অমৃতের উদ্ভবের আখ্যানও থাকবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
তিন পুজোর থিম আলাদা হলেও একটি জায়গায় মিল রয়েছে— সনাতন ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে সামনে রাখা। উদ্যোক্তারা প্রত্যেকেই প্রতিযোগিতার কথা অস্বীকার করছেন। কিন্তু নিউ টাউনের পুজোর পরিসরে তিনটি শক্তিশালী মুখের উপস্থিতি যে আলাদা মাত্রা তৈরি করেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
এক দিকে পদ্ম-ভাবনা, অন্য দিকে সনাতন ঐতিহ্যের সঙ্গে বিজ্ঞানের মেলবন্ধন, আবার কোথাও মহাকুম্ভের আবহ— থিমের লড়াইও যে কম জমজমাট নয়, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। পুজো শুরু হলে ভিড়, আয়োজন এবং দর্শকের প্রতিক্রিয়াই হয়তো বলে দেবে, নিউ টাউনে এ বার শেষ হাসি হাসল কোন পুজো।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।