সন্দীপ রেড্ডিকে ফুল মার্কস দিলেন রশ্মিকা!
সিনেমা জগতে বিতর্ক নতুন কিছু নয়, তবে পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি বঙ্গার সঙ্গে দীপিকা পাড়ুকোনের দ্বন্দ্ব যেন খানিকটা বাড়তি আলোড়ন ফেলেছে। কারণ বিষয়টি শুধুই পেশাদার শর্তের মধ্যে আটকে নেই—এখানে এসে পড়েছে “নারীবাদ” শব্দটিও। আর এই বিতর্কে এবার স্পষ্টভাবে পরিচালকের পাশে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দানা।
ঘটনার সূত্রপাত ‘স্পিরিট’ নামের একটি প্রজেক্ট ঘিরে। শোনা গিয়েছে, দীপিকা ছবির জন্য ২০ কোটি টাকার পারিশ্রমিক ও দিনে আট ঘণ্টা শুটিংয়ের শর্ত দেন, যা প্রযোজক ও নির্মাতারা মানতে রাজি হননি। পরে দীপিকাকে বাদ দেওয়ার পর, নাম না করেই নারীবাদ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন সন্দীপ রেড্ডি বঙ্গা। যদিও সরাসরি কোনও অপমান নয়, তাঁর কথায় প্রচ্ছন্ন কটাক্ষ ছিল, এমনটাই মনে করেছেন অনেকে। এই মন্তব্য ঘিরে নেটদুনিয়ায় দুই মেরুতে ভাগ হয়ে পড়েছে জনমত।
সন্দীপ রেড্ডি বঙ্গা—এই নাম বললেই আজকাল একটাই প্রশ্ন মাথায় আসে, ‘নারীবাদ বিরোধী’ পরিচালক? তেলুগু সুপারহিট অর্জুন রেড্ডি থেকে বলিউডের কবীর সিং এবং অ্যানিম্যাল, প্রত্যেক ছবিতেই তাঁর পুরুষ চরিত্ররা রাগান্বিত, নিয়ন্ত্রণহীন, এবং কখনও কখনও প্রেমিকার প্রতি শারীরিক হিংসাত্মক। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয় নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, বঙ্গা নারীর প্রতি অসম্মানকে “পুরুষতন্ত্র” নামে গ্ল্যামারাইজ করছেন।
তবে এখানেই গল্পে মোড়। এই বিতর্কের মাঝে রণবীর কপূরের বিপরীতে ‘অ্যানিম্যাল’-এ অভিনয় করা রশ্মিকা মন্দানা পরিচালকের হয়ে মুখ খুললেন। স্পষ্ট বললেন, “সন্দীপ রেড্ডি বঙ্গা স্যরের মধ্যে আমি যা দেখেছি, তা হল একজন নারীর প্রতি পরম শ্রদ্ধা।” তাঁর মতে, একজন মানুষ হিসেবে বঙ্গা যথেষ্ট সহানুভূতিশীল, এবং তিনি কোনওভাবেই নারী বিদ্বেষী নন। রশ্মিকার এই বক্তব্য যেন পুরো বিতর্কে নতুন রঙ ঢেলে দিল।
প্রশ্ন উঠতেই পারে—তাহলে কি নারীবাদের নামে পেশাদার চাহিদা বা শর্তপত্র নিয়ে আলোচনাকে অযথা ‘আগ্রাসী’ বলা হচ্ছে? আবার উল্টো দিক থেকে, নারীদের পেশাগত অবস্থানকে সম্মান জানানো কি মানেই নারীবাদী হওয়া? দীপিকা যেভাবে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে রেখেছেন, তা নিঃসন্দেহে সাহসিকতার পরিচায়ক। অন্যদিকে, রশ্মিকা যেভাবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পরিচালকের চরিত্রকে ব্যাখ্যা করেছেন, সেটাও একরকম মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত।
এই বিতর্কে কে ঠিক আর কে ভুল—সেটা সময় বলবে। তবে এতটুকু স্পষ্ট, আজকের তারকা অভিনেত্রীরা কেবল পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও নিজেদের মত প্রকাশে পিছপা হন না। দীপিকা হোন বা রশ্মিকা—দু’জনেই তাঁদের জায়গা থেকে প্রাসঙ্গিক কথা বলছেন, এবং সমাজ সেই কথাগুলোকেই ভেবে দেখছে নতুন চোখে।
আম খাওয়ার সেরা সময় এবং কীভাবে খেলে ওজন বা শর্করা বাড়বে না!