নবমীতে বড় প্রতিজ্ঞা স্বস্তিকার!
সব সময় স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ বা নেতিবাচক মন্তব্য এলে এত দিন পর্যন্ত তিনি কখনও চুপ থাকেননি, অকপটে জবাব দিয়েছেন। কিন্তু এ বার নবমীর বিশেষ দিনে নিজের কাছে বড় একটি প্রতিজ্ঞা করলেন অভিনেত্রী — আর উত্তর দেবেন না, কারণ “ওদের এতটা মূল্য দেওয়ার কোনও মানে হয় না।”
নবমীর বার্তায় নতুন সিদ্ধান্ত
নবমীর সকালে পরনে ঐতিহ্যবাহী শাড়ি, মাথায় টানা ঘোমটা আর কপালে বড় টিপ পরে নিজের একটি ছবি ভাগ করেন স্বস্তিকা। সেই ছবির সঙ্গে লিখেছেন তাঁর প্রতিজ্ঞার কথা। তিনি বলেন,
“শুভ নবমী। এই পুজোয় আমি নিজের কাছে একটা প্রতিজ্ঞা করেছি — ছাগলদের মন্তব্যে আর উত্তর দেব না। যদিও চোখে পড়লে হাত ইশপিশ করে ওঠে, মনে হয় জবাব দেওয়া উচিত। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ওদের এতটা গুরুত্ব দেওয়ার কোনও মানে নেই।”
এই একটি বাক্যেই যেন প্রকাশ পেল অভিনেত্রীর নতুন মনোভাব — নিজের শক্তি ও সময় আর নেতিবাচকতায় ব্যয় করবেন না তিনি।
ট্রোলিং আর কেবল কটাক্ষ নয়, এক মহামারী
তারকাদের জীবনে ট্রোলিং নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে নারীদের পোশাক, শরীর বা মতামত নিয়ে কটাক্ষ প্রায় রোজকার। স্বস্তিকাও বারবার হয়েছেন এই আক্রমণের শিকার। কিন্তু এ বার তিনি একে নতুনভাবে দেখছেন। তাঁর কথায়,
“ট্রোলিং এখন আর শুধুই ট্রোলিং নেই। এটা একটা মহামারীর মতো হয়ে গিয়েছে। আমাদের প্রত্যেককে প্রতিদিনই নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এই পরিস্থিতিতে জীবনে বাড়তি নেতিবাচকতার জায়গা নেই।”
অভিনেত্রীর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, সমাজমাধ্যমে ঘৃণা বা আক্রমণকে আর স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে রাজি নন তিনি। বরং নিজেদের মানসিক শান্তির জন্য দূরত্ব তৈরি করাটাই এখন তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
ব্লক করাই হবে নতুন পথ
তাহলে এখন থেকে কটাক্ষকারীদের মোকাবিলা কী ভাবে করবেন স্বস্তিকা? তাঁর সহজ উত্তর — “ব্লক”। অভিনেত্রী লিখেছেন,
“ব্লক করার মধ্যে আমি নতুন করে অর্থ খুঁজে পেয়েছি। যাঁরা আমাকে ভালবাসেন, তাঁদের সবাইকে অনেক ভালবাসা। আমি সেই ভালবাসা নিয়েই বেঁচে থাকব।”
অর্থাৎ এখন থেকে বিদ্বেষ নয়, কেবল ভালোবাসা ও ইতিবাচক শক্তিকেই জীবনের সঙ্গী করতে চান তিনি।
নারীদের উদ্দেশে বার্তা
নিজের মতো করে জীবন যাপন করা নারীরা প্রায়ই বডিশেমিং-এর শিকার হন। স্বস্তিকা নিজেও এ অভিজ্ঞতা থেকে মুক্ত নন। নবমীর বার্তায় তাঁদের উদ্দেশে এক বিশেষ ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন তিনি। লিখেছেন,
“যে মহিলারা নিয়মিত বডিশেমিং-এর শিকার হন, তাঁদের জন্য অনেক ভালবাসা ও আনন্দ পাঠালাম। আমরা যদি সবাই সবাইকে ভালবাসি, তাহলেই আমরা জয়ী হতে পারব।”
নেতিবাচকতার বদলে ভালোবাসার পক্ষে
স্বস্তিকার নবমীর প্রতিজ্ঞা আসলে এক গভীর বার্তা — নেতিবাচক কটূক্তির জবাবে নীরবতা ও দূরত্বই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া। ঘৃণার চক্রে পা না দিয়ে ভালোবাসা ও ইতিবাচকতায় মনোনিবেশ করাই এখন তাঁর লক্ষ্য।