‘ধুরন্ধর’-এর পাল্টা বার্তা দিতে পাকিস্তানের নতুন সিনেমা: লিয়ারিকে হিংসা নয়, শান্তির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস

‘ধুরন্ধর’-এর পাল্টা বার্তা দিতে পাকিস্তানের নতুন সিনেমা রণবীর কপূর অভিনীত এবং আদিত্য ধর পরিচালিত ছবি ‘ধুরন্ধর’ বক্স অফিসে যেমন সাফল্য পেয়েছে, তেমনই তৈরি করেছে প্রবল বিতর্ক। ভারতের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ…

December 15, 2025
1 min read

‘ধুরন্ধর’-এর পাল্টা বার্তা দিতে পাকিস্তানের নতুন সিনেমা

রণবীর কপূর অভিনীত এবং আদিত্য ধর পরিচালিত ছবি ‘ধুরন্ধর’ বক্স অফিসে যেমন সাফল্য পেয়েছে, তেমনই তৈরি করেছে প্রবল বিতর্ক। ভারতের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও ছবিটি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ছবিতে করাচির লিয়ারি অঞ্চলকে যেভাবে গ্যাংস্টার ও হিংসার আঁতুড়ঘর হিসেবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাক সরকার ও সে দেশের একাংশের মানুষ। এই আবহেই ‘ধুরন্ধর’-এর পাল্টা জবাব দিতে পাকিস্তানে ঘোষণা করা হল নতুন ছবি ‘মেরা লিয়ারি’।

পাক সরকারের বক্তব্য, ভারতীয় এই ছবিতে পাকিস্তান এবং লিয়ারিকে অত্যন্ত নেতিবাচক ও একপেশে দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। শনিবার পাক সরকারের মন্ত্রী শারজিল ইনাম মেমন সমাজমাধ্যমে ‘মেরা লিয়ারি’ ছবির পোস্টার প্রকাশ করে সরাসরি দাবি করেন, লিয়ারি মানেই হিংসা নয়। তাঁর কথায়, “লিয়ারি পাকিস্তানের সংস্কৃতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, খেলাধুলা ও সৃজনশীল প্রতিভার এক উজ্জ্বল প্রতীক। ভারতীয় ছবি ‘ধুরন্ধর’ আসলে প্রোপাগান্ডার আরেকটি উদাহরণ। ‘মেরা লিয়ারি’ ছবির মাধ্যমে এই এলাকার প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরা হবে।”

পাকিস্তানি নির্মাতাদের দাবি, এই ছবিতে লিয়ারির মানুষের দৈনন্দিন জীবন, তাঁদের সংগ্রাম, সংস্কৃতি এবং সাফল্যের গল্প উঠে আসবে। ফুটবলপ্রেম, সঙ্গীতচর্চা এবং সামাজিক বন্ধনের দিকগুলি তুলে ধরে লিয়ারিকে নতুন দৃষ্টিতে দেখানোর চেষ্টা থাকবে। আগামী মাসেই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা বলে জানানো হয়েছে।

তবে নেটদুনিয়ায় এই ঘোষণার পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বহু নেটাগরিক কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘ধুরন্ধর’-এর জনপ্রিয়তাকে টেক্কা দিতে এই ছবি আদৌ পারবে না। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, “পাকিস্তানের দর্শকরাও ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে আলোচনা করছেন। আর ‘মেরা লিয়ারি’ বিনামূল্যে দেখালেও হয়তো দর্শক মিলবে না।” আবার অনেকে মনে করছেন, এই পাল্টা ছবি আসলে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা মাত্র।

উল্লেখ্য, ‘ধুরন্ধর’ এক সপ্তাহের মধ্যেই বক্স অফিসে নজির গড়েছে। ‘পুষ্পা ২’ বা ‘ছাওয়া’র মতো বড় ছবির রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছে এই ছবি। তবে সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও বেড়েছে। পাকিস্তান ছাড়াও পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে ছবিটি নিষিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাহরিন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এখনও মুক্তি পায়নি ‘ধুরন্ধর’। এই দেশগুলির সেন্সর বোর্ড ছবিটিকে ‘পাকিস্তান-বিরোধী’ বলে মনে করেছে বলেই সূত্রের খবর।

নির্মাতারা নাকি এই দেশগুলিতে ছবিটি মুক্তির জন্য চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় ‘ধুরন্ধর’ মুক্তি পাবে না বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর’ শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাতের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আর তারই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জন্ম নিচ্ছে ‘মেরা লিয়ারি’। এখন দেখার, দর্শক ও সমালোচকের চোখে লিয়ারির কোন ছবি শেষ পর্যন্ত বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে— হিংসার ছায়া, না কি শান্তি ও সংস্কৃতির গল্প।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *