ফের গ্রেফতার অ্যান্ড্রু টেট!
আবারও আইনের জালে ধরা পড়লেন বিতর্কিত নেটপ্রভাবী অ্যান্ড্রু টেট এবং তাঁর ভাই ট্রিস্টান টেট। ধর্ষণ, মানবপাচার এবং যৌন শোষণের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে শনিবার আমেরিকার মায়ামি থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁদের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে রোমানিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকা— তিন দেশজুড়ে বিস্তৃত আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে ফের উঠে এল টেট ভ্রাতৃদ্বয়।
আমেরিকা ও ব্রিটেনের দ্বৈত নাগরিক অ্যান্ড্রু এবং ট্রিস্টান ২০১৬ সালে রোমানিয়ায় বসবাস শুরু করেন। ২০২২ সালেই মানবপাচার ও যৌন শোষণের অভিযোগে রোমানিয়ার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করেছিল। যদিও তাঁরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং আইনি জটিলতার কারণে সেই মামলা দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল। এবার ব্রিটেনে ২০১০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সংঘটিত একাধিক ধর্ষণ ও মানবপাচারের অভিযোগে তাঁদের ফের আইনি সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে।
অ্যান্ড্রু টেট বহু বছর ধরেই বিতর্কের আরেক নাম। পেশাদার কিকবক্সার হিসেবে কেরিয়ার শুরু করলেও পরে তিনি সমাজমাধ্যমে নিজেকে ‘সফল পুরুষত্ব’-এর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেন। তবে তাঁর জনপ্রিয়তার বড় অংশই এসেছে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য, বিতর্কিত বক্তব্য এবং উসকানিমূলক ভিডিওর মাধ্যমে। বিভিন্ন সময়ে তিনি দাবি করেছেন, নারীরা পুরুষের সম্পত্তির মতো এবং ধর্ষণের ঘটনাতেও নারীদের দায় রয়েছে— এমন মন্তব্যের জেরেই তাঁকে ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম-সহ একাধিক প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ আরও ভয়াবহ। প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক নারীকে ফাঁদে ফেলে তাঁদের জোর করে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরিতে বাধ্য করা হত। অভিযোগ, রোমানিয়ার একটি বিলাসবহুল বাড়িতে তাঁদের আটকে রাখা হতো এবং যৌনদাসীর মতো ব্যবহার করা হতো। এমনকি কয়েকজনের শরীরে ‘টেটের দাসী’ লেখা ট্যাটুও করানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
অ্যান্ড্রুর ভাই ট্রিস্টান টেটও একই মামলায় অভিযুক্ত। তদন্তকারীদের দাবি, দাদার ব্যবসা ও নেটওয়ার্ক পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। যদিও দুই ভাইই বরাবর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁদের আইনজীবীর দাবি, সমস্ত অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আদালতে সত্য সামনে এলে তাঁরা নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।
অ্যান্ড্রু টেটের বিতর্কিত জীবনযাত্রাও বহুবার আলোচনায় এসেছে। সমাজমাধ্যমে বিলাসবহুল গাড়ি, প্রাসাদোপম বাড়ি, ব্যক্তিগত বিমান ও বিপুল সম্পদের প্রদর্শন করে তিনি কোটি কোটি অনুসারী অর্জন করেছিলেন। নিজস্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তিনি পুরুষতান্ত্রিক মতাদর্শ প্রচার করতেন এবং সেখান থেকেই বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগও রয়েছে।
রোমানিয়া থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর গত বছর তাঁরা ফ্লরিডায় যান। কিন্তু সেখানেও তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন তদন্ত শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত শনিবার মায়ামি থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর ফের আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে টেট ভ্রাতৃদ্বয়ের নাম।
আদালতে আগামী শুনানিতে তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে। তবে এই ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলেছে— সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয়তা এবং বিপুল প্রভাব কি আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে, নাকি শেষ পর্যন্ত বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হতেই হয়?
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?