অরিজিতের পথে হাঁটছেন শ্রেয়া ঘোষালও!
গান এবং সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং দায়িত্বশীলতা—এইসব কারণে শ্রেয়া ঘোষাল গানের জলসা থেকে আপাতত দূরে থাকছেন। তাঁর জন্য গান শুধু একটি পেশা নয়, এটি তাঁর জীবনের অঙ্গ। তবে, এই মুহূর্তে দেশের পরিস্থিতি এমনই যে, গানের অনুষ্ঠান শোনানোর মতো মনের অবস্থা তাঁর নেই। ফলে, অরিজিত সিংহের মতো শ্রেয়াও তার মঞ্চের অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন।
দেশের পরিস্থিতি আগে, গানের জলসা পরে
শ্রেয়া ঘোষাল, যিনি তার সুরেলা কণ্ঠে লাখো হৃদয় জয় করেছেন, শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজে একটি লম্বা পোস্ট দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি এমন যে, গান শোনানোর জন্য তিনি প্রস্তুত নন। আগামী ১০ মে মুম্বইয়ে তাঁর নিজ শহরের বাসিন্দাদের জন্য গান গাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেই অনুষ্ঠান থেকে তিনি দূরে থাকতে চাইছেন। তাঁর কথায়, “দেশ আগে, জলসা পরে”।
শ্রেয়া নিজের পোস্টে লিখেছেন, “নিজের শহরের অনুষ্ঠান বাতিল করতে খুবই কষ্ট হয়, তবে আপাতত আমাদের দেশের পরিস্থিতি এমন, যে গান গাওয়া বা শোনার মতো পরিবেশ নেই।” তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি আবারও গানের মঞ্চে ফিরবেন। তাঁর মতে, “এ মুহূর্তে দু’টি দেশের শান্তির প্রয়োজন, তার পরেই বাকি সব কিছু।”
অরিজিত সিংহের পদক্ষেপের সঙ্গে মিল
শ্রেয়ার এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগে অরিজিত সিংহও তাঁর কনসার্ট বাতিল করেছিলেন। তিনি সমাজমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, “যতদিন না পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে, ততদিন গান গাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হবে না।” তিনি তাঁর দর্শক-শ্রোতাদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শ্রেয়ার পেশাগত সিদ্ধান্ত
শ্রেয়া ঘোষাল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা একদিকে যেমন ব্যক্তিগত, তেমনই পেশাগতও। তার জন্য গানের অনুষ্ঠানই একমাত্র লক্ষ্য নয়। তিনি একেবারে সঠিক ভাবেই দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রথম অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তার পেশাগত জীবন, মঞ্চে গান গাওয়ার ইচ্ছা সত্ত্বেও দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার গুরুত্ব তিনি স্বীকার করছেন।
এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শ্রেয়া শুধু তাঁর শ্রোতাদেরই নয়, পুরো দেশকে একটি বার্তা দিয়েছেন—গান, সঙ্গীত, বিনোদন সব কিছুই একটি সময়ের জন্য পিছিয়ে রাখা যেতে পারে, কিন্তু দেশের শান্তি এবং মানুষের নিরাপত্তা সবচেয়ে বড়।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে মিথ্যাচারের তৎপরতা: ভুয়ো খবরকে হাতিয়ার করছে পাকিস্তান