‘দুই বাবার’ সন্তান এবার নিজেই মা! ইঁদুরে পরীক্ষায় চমক, মানব প্রজননে কি খুলছে নতুন দিগন্ত?

ইঁদুরে পরীক্ষায় চমক, মানব প্রজননে কি খুলছে নতুন দিগন্ত? বিজ্ঞান ফের দেখাল, অসম্ভব বলেই কিছু নেই। এবার ইঁদুরের শরীরে সফল হল এমন এক পরীক্ষা, যেখানে দুটি পুরুষ ইঁদুরের থেকে জন্ম…

June 30, 2025
1 min read

ইঁদুরে পরীক্ষায় চমক, মানব প্রজননে কি খুলছে নতুন দিগন্ত?

বিজ্ঞান ফের দেখাল, অসম্ভব বলেই কিছু নেই। এবার ইঁদুরের শরীরে সফল হল এমন এক পরীক্ষা, যেখানে দুটি পুরুষ ইঁদুরের থেকে জন্ম নেওয়া সন্তান নিজেই সন্তান জন্ম দিল! ইতিহাসে প্রথমবার এমন ঘটনার সাক্ষী থাকল গবেষণা জগৎ। এই অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে চিনের সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের হাত ধরে। যদিও এখনও মানুষে এই প্রযুক্তি প্রয়োগের প্রশ্নে বিজ্ঞানীরা রয়েছেন অত্যন্ত সতর্ক।

এই প্রক্রিয়ার নাম অ্যান্ড্রোজেনেসিস—যেখানে একান্তভাবে দুটি পুরুষের জেনেটিক উপাদান দিয়েই নতুন প্রাণীর জন্ম সম্ভব হয়। এর আগেও দুই পুরুষ ইঁদুর থেকে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। তবে সেই ইঁদুররা নিজেরা সন্তানধারণ করতে পারেনি। এবার সেই সীমাবদ্ধতাও পেরোনো গেল। সদ্য প্রকাশিত গবেষণাপত্র অনুযায়ী, বিজ্ঞানীরা প্রথমে দুটি পুরুষ ইঁদুরের শুক্রাণু সংগ্রহ করেন। তারপর একটি স্ত্রী ইঁদুরের ডিম্বাণু থেকে নিউক্লিয়াস সরিয়ে ফেলে, সেই ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করেন ওই শুক্রাণু দিয়ে। গঠিত হয় ২৫৯টি ভ্রূণ। এর মধ্যে থেকে তিনটি ভ্রূণ জন্ম নেয়, আর দু’টি সুস্থভাবে বেঁচে থাকে। বড় হয়ে সেই দু’টি ইঁদুরও নিজেরাই নতুন প্রজন্মের জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলেও সাফল্যের হার এখনো খুব কম। প্রক্রিয়াটি জটিল, ব্যয়বহুল ও বিপজ্জনকও হতে পারে। এই পদ্ধতিতে স্ত্রী ইঁদুরের সাইটোপ্লাজম রয়ে গেলেও তার নিউক্লিয়াস বা জিনগত উপাদান সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে মাতৃক মাইটোকন্ড্রিয়া রয়ে যাওয়ায় একপ্রকারে কিছুটা ‘মায়ের ছোঁয়া’ থেকে যাচ্ছে সন্তানে।

ভারতের জিনতত্ত্ব গবেষক পার্থপ্রতিম মজুমদার বলছেন, “এই পদ্ধতির নৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যদিও চিনা বিজ্ঞানীরা দক্ষতায় এটা করেছেন, তবে এটা তাঁদের মৌলিক আবিষ্কার নয়।” তিনি আরও মনে করেন, মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ আগামী কয়েক দশকেও সম্ভব নয়। কারণ, এটি যেমন নীতিগত প্রশ্ন তোলে, তেমনই বিপদের ঝুঁকি অনেক বেশি।

তবু প্রশ্ন থেকেই যায়—এই পদ্ধতির উন্নতি হলে কি ভবিষ্যতে সমলিঙ্গ যুগলদের জন্য নতুন আশার আলো জ্বলবে? অনেকেই মনে করছেন, এটি LGBTQIA+ পরিবার গঠনের প্রেক্ষিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা এখনই ‘আবেগ নয়, বাস্তবতা’র পথে হাঁটতে চান। ইঁদুরে পাওয়া সাফল্যকে আগে স্থিতিশীল করতে চান তাঁরা।

‘আমার জীবনের চালিকাশক্তি তুমি’ – জন্মদিনে রুক্মিণীকে আদর করে দেব দিয়েছে স্পেশাল শুভেচ্ছা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *