দুঃস্বপ্নের শেষ অধ্যায়: অহমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা স্থির হল ২৬০-তে, ডিএনএ পরীক্ষার পর শেষ মরদেহও পরিবারের হাতে

অহমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা স্থির হল ২৬০-তে! অহমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার ভয়াল স্মৃতি এখনও দেশের মানসপটে দগদগে। ১২ জুন, দুপুরে আকাশে ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মাটিতে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার…

June 29, 2025
1 min read

অহমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা স্থির হল ২৬০-তে!

অহমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনার ভয়াল স্মৃতি এখনও দেশের মানসপটে দগদগে। ১২ জুন, দুপুরে আকাশে ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই মাটিতে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী বিমানটি। মুহূর্তেই ভস্মীভূত হয় যাত্রীভর্তি উড়ান। প্রাথমিক হিসেবের চেয়ে বেশি প্রাণ হারান সাধারণ মানুষ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় দেহ এমনভাবে ঝলসে গিয়েছিল যে অনেকের অবশেষ শনাক্ত করতেই সময় লেগে যায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ।

শনিবার সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ২৬০ জনের। এত দিন এই সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। প্রথমে পুলিশ জানায় ২৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরে, উদ্ধার হওয়া আরও দেহাংশ দেখে অনুমান করা হয় মৃতের সংখ্যা ২৭৪-ও হতে পারে। কিন্তু অবশেষে ডিএনএ বিশ্লেষণ শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হয়েছে—এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬০ জন।

দীর্ঘ চেষ্টার পর ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা শনাক্ত করতে পেরেছেন শেষ দেহাংশটিও। অহমদাবাদ সিভিল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট রাকেশ জোশী জানান, শনিবার সেই দেহও তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের হাতে। তিনি বলেন, “ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সব মৃতদেহ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। শেষ দেহাংশ শনাক্ত হওয়ার পরই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, মৃতের সংখ্যা ২৬০।”

এয়ার ইন্ডিয়ার ওই বিমানটিতে মোট ২৪২ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয় ২৪১ জনের। একমাত্র জীবিত ব্যক্তি ব্রিটিশ-ভারতীয় নাগরিক বিশ্বাসকুমার রমেশ, যিনি দুর্ঘটনার সময় ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। বিমানযাত্রীদের মধ্যে ছিলেন ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাত জন পর্তুগিজ এবং এক জন কানাডিয়ান। বিমান দুর্ঘটনায় শুধুমাত্র যাত্রীরাই নন, মৃত্যু হয়েছে আরও ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দার, যাঁরা ঘটনাস্থলের আশপাশেই ছিলেন।

ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে বহু দেহ পাওয়া গিয়েছে খণ্ড খণ্ড অবস্থায়—কারও হাত, কারও পা, কোথাও আবার শুধু মাথা। যাঁরা সেদিন সেই জায়গায় ছিলেন, তাঁরা এখনও ভয়ে কেঁপে ওঠেন। এত বড় দুর্ঘটনার পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক স্তরে জোরদার ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, যাত্রীদের পরিবারগুলির ক্ষত এখনও গভীর ও তাজা।

তিন জন গুরুতর আহত এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রশাসন জানিয়েছে, তাঁদের শারীরিক অবস্থার উন্নতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

১২ জুন দুপুর ১টা ৩৮ মিনিট। অহমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমানটি। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ঘটে এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। তদন্ত চলছে, কিন্তু উত্তর এখনও অধরা—কীভাবে এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল? যান্ত্রিক ত্রুটি, না কি মানবিক ভুল?

উইম্বলডনে হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে আলকারাজ়, জোকোভিচের প্রতিপক্ষ মুলার, তাপপ্রবাহে চিন্তায় আয়োজকরা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *