দিশা সলিয়ানের মৃত্যুতে নতুন মোড়, তদন্তে সিবিআই! গণধর্ষণ-খুনের অভিযোগ কি সত্যি, সামনে আসবে আসল রহস্য?

দিশা সলিয়ানের মৃত্যুতে নতুন মোড়! প্রায় ছ’বছর পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে দিশা সলিয়ানের মৃত্যু। অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজারের মৃত্যুর তদন্ত এ বার করবে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)।…

September 2, 2026
0 min read

দিশা সলিয়ানের মৃত্যুতে নতুন মোড়!

প্রায় ছ’বছর পর ফের আলোচনার কেন্দ্রে দিশা সলিয়ানের মৃত্যু। অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের প্রাক্তন ম্যানেজারের মৃত্যুর তদন্ত এ বার করবে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। বুধবার বোম্বে হাই কোর্টের নির্দেশে এই তদন্তের পথ খুলে গেল। দিশার বাবা সতীশ সলিয়ানের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সতীশের অভিযোগ ছিল, ২০২০ সালের জুনে মেয়ের মৃত্যুর তদন্তে মুম্বই পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করেনি। তাঁর দাবি, ঘটনাটি নিছক আত্মহত্যা নয়, এর পিছনে আরও বড় রহস্য রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত পুলিশকে মামলার সমস্ত নথি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারপতি সারং কোটওয়াল এবং বিচারপতি রঞ্জিতসিংহ রাজা ভোঁসলের বেঞ্চ জানিয়েছে, তদন্তে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না মিললে তাঁকে অভিযুক্ত করা যাবে না। আবার তদন্তের ভিত্তিতে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

আদালতের বক্তব্য, তদন্তের পরে যদি এফআইআর চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি না পাওয়া যায়, তা হলে সিবিআই সংশ্লিষ্ট আদালতে ‘সামারি রিপোর্ট’ বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবে। তবে সেই রিপোর্টের বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার থাকবে দিশার বাবা সতীশের।

দিশার আইনজীবী নীলেশ ওঝার দাবি, আদালত সতীশের বয়ান রেকর্ড করা, এফআইআর দায়ের এবং তদন্তের জন্য একজন বর্ষীয়ান আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। মলভানি থানাকেও যাবতীয় নথি সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে।

দিশার মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ছিল। ২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বইয়ের মালাডের একটি বহুতলের ১৪ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। সুশান্তের মৃত্যুর ঠিক এক সপ্তাহ আগে এই ঘটনা ঘটে। সেই সময় পুলিশ ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট’ নথিভুক্ত করেছিল এবং প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার সম্ভাবনার কথাই জানানো হয়েছিল।

পুলিশের বক্তব্য ছিল, পারিবারিক সমস্যা ও কাজের চাপের কারণে দিশা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। ময়নাতদন্তেও ধর্ষণ বা যৌন হেনস্থার কোনও প্রমাণ মেলেনি বলে আদালতকে জানিয়েছিল পুলিশ।

কিন্তু দিশার বাবা সেই ব্যাখ্যা মেনে নেননি। তাঁর অভিযোগ ছিল, মেয়েকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগের পরিধিতে শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরের নামও উঠে আসে। যদিও মুম্বই পুলিশের চূড়ান্ত রিপোর্টে জানানো হয়েছিল, দিশার মৃত্যুর ঘটনায় আদিত্যর কোনও ভূমিকা পাওয়া যায়নি।

দিশার প্রেমিক তথা টেলিভিশন অভিনেতা রোহন রাইয়ের বয়ান নিয়েও দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে। রোহনের দাবি ছিল, মৃত্যুর রাতে তাঁরা বন্ধুদের সঙ্গে একটি ফ্ল্যাটে পার্টি করছিলেন। দিশা নিজের পানীয়তে কিছু মিশিয়ে খেয়েছিলেন এবং পরে ইংল্যান্ডে থাকা এক বন্ধুর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এরপর তিনি একটি ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে ঘরে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে নীচে তাঁর দেহ দেখতে পাওয়া যায় বলে রোহনের দাবি।

দিশা ২০১১ সালে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করার পরে বিনোদন জগতে ট্যালেন্ট ম্যানেজার হিসেবে পরিচিতি পান। ভারতী সিংহ, বরুণ শর্মার মতো একাধিক তারকার সঙ্গেও কাজ করেছিলেন। পরে সুশান্ত সিংহ রাজপুতের ম্যানেজার হন তিনি।

২০২৫ সালের মার্চে ফের মেয়ের মৃত্যুর তদন্তের দাবি জানান সতীশ। পুলিশ অবশ্য তাঁর গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগের ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছিল। এর মধ্যেই পরিবারের তরফে মুম্বই পুলিশের তৎকালীন ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এমনকি তদন্তে গাফিলতি এবং তথ্য চাপা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

এ বার সেই মামলাতেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। ফলে দিশার মৃত্যু নিয়ে এত দিন ধরে ওঠা অভিযোগ, পাল্টা দাবি এবং নানা প্রশ্নের উত্তর আদৌ মেলে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *