দিঘার সৈকতে অন্য এক মমতা: বাঁদরকে বিস্কুট খাওয়ালেন মুখ্যমন্ত্রী!

দিঘার সৈকতে অন্য এক মমতা রথযাত্রার প্রাক্কালে দিঘার সৈকতে দেখা মিলল এক অন্য মেজাজের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রশাসনিক কর্মসূচি, নিরাপত্তা বৈঠকের মাঝে কিছুটা সময় বার করে তিনি হাঁটতে বেরিয়ে পড়েন…

June 27, 2025
0 min read

দিঘার সৈকতে অন্য এক মমতা

রথযাত্রার প্রাক্কালে দিঘার সৈকতে দেখা মিলল এক অন্য মেজাজের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রশাসনিক কর্মসূচি, নিরাপত্তা বৈঠকের মাঝে কিছুটা সময় বার করে তিনি হাঁটতে বেরিয়ে পড়েন সমুদ্রের ধারে। আর সেখানেই ঘটে গেল এক আবেগঘন মুহূর্ত—একটি বাঁদরের সঙ্গে তৈরি হয়ে গেল এক সরল অথচ হৃদয়ছোঁয়া সংযোগ।

বুধবারই রথযাত্রার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে দিঘায় পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রথম বার দিঘার জগন্নাথ মন্দির স্থাপনের পর এত বড় রথযাত্রার আয়োজন হয়েছে। তাই সেই উৎসব ঘিরে ছিল প্রশাসনিক তোড়জোড়, মঞ্চস্থ প্রস্তুতি, এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যপারে একাধিক পর্যালোচনা বৈঠক। তবু সেই সব কর্মব্যস্ততা ছাপিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলের সেই মুহূর্ত মন ছুঁয়ে যায় সবার।

বিকেলের আলোয় দিঘার সৈকতে হালকা হাওয়ার সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, সঙ্গে ছিলেন তাঁর সঙ্গীরাও। সৈকতের পাশে বসে চা খাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ করেই তাঁর সামনে এসে হাজির হয় একটি বাঁদর। সমুদ্রসৈকতের আশপাশে ঘোরাঘুরি করে এমনই কিছু বন্যপ্রাণ, যাদের অনেকেই চেনে। পর্যটকরাও মাঝেমধ্যে খাবার দেন তাদের। সেই বাঁদরটিকে দেখে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিস্কুট আনানোর নির্দেশ দেন এবং নিজের হাতে খাওয়ান প্রাণীটিকে। মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যে প্রশাসনিক নেতা হওয়ার পাশাপাশি এক সহজ, মানবিক চরিত্রও—সেই সত্যই যেন উঠে এল এই ঘটনায়।

এই ঘটনার ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রী দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে গিয়ে সরেজমিনে রথযাত্রার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন। সেখানে ছিলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী—পুলক রায়, অরূপ বিশ্বাস, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও সুজিত বসু। তিনটি রথ কীভাবে পরিচালিত হবে, কিভাবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হবে, কোথায় কীভাবে ব্যারিকেড থাকবে—সবকিছু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত খুঁটিনাটি আলোচনা করেন।

তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকেই রথযাত্রার উপচার ও প্রস্তুতি শুরু হবে। দুপুর ২টোয় রথের সামনে আরতি ও পুজো হবে, আর আড়াইটের সময় রথ বেরোবে। তিনি কড়া বার্তা দেন—যাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সেই কারণে কেউ যেন ব্যারিকেড টপকে রাস্তায় না নামেন।

তবে এদিনের মূল চমক ছিল সেই সহজ মুহূর্তের ছবি—যেখানে দায়িত্বের পাহাড় বয়ে চলা এক মুখ্যমন্ত্রী হঠাৎ হয়ে ওঠেন পাশের বাড়ির ‘মামনি’ বা ‘মাসিমা’। একটা বিস্কুট, একটা মন খোলা হাসি, আর এক অনাথ বাঁদরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া ভালোবাসা—এই সব মিলেই দিঘার আকাশে যেন এদিন মানবিকতার এক নতুন আলো ছড়িয়ে পড়ল।

স্মৃতি ধরে রাখার জাদু: মস্তিষ্কে অ্যাসিটোকোলিন সচল রাখতে রোজকার অভ্যেসে আনুন এই পাঁচ পরিবর্তন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *