দামাস্কাসের দোরগোড়ায় ইজরায়েলি ফৌজ! সিরিয়ায় কি আবার ক্ষমতার পালাবদল?

দামাস্কাসের দোরগোড়ায় ইজরায়েলি ফৌজ! সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত রবিবার বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) এবং তাদের সহযোগী ‘জইশ আল-ইজ্জা’ যৌথভাবে দামাস্কাস দখল করে…

December 12, 2024
1 min read

দামাস্কাসের দোরগোড়ায় ইজরায়েলি ফৌজ!

সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত রবিবার বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) এবং তাদের সহযোগী ‘জইশ আল-ইজ্জা’ যৌথভাবে দামাস্কাস দখল করে নেয়। কিন্তু এর মধ্যেই ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর দ্রুত অগ্রগতি এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিশায় নিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইজরায়েলি সেনার অগ্রগতি

ইজরায়েলি সেনা গোলান মালভূমি পেরিয়ে দক্ষিণ সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বাহিনী রাজধানী দামাস্কাসের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। নেতানিয়াহুর সরকার জানিয়েছে, সিরিয়ার ভূখণ্ডে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ বা বাফার জোন গঠন করা হবে, যা ইজরায়েলের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাট্‌জ্‌ বলেন, “সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যেন সিরিয়ার মাটি ব্যবহার করে ইজরায়েলে হামলা না চালাতে পারে, তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অবস্থান

গত রবিবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে উৎখাত করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এইচটিএস দামাস্কাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রেসিডেন্ট আসাদ এবং তার পরিবার মিত্র দেশ রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। তবে এখনও সিরিয়ার কিছু অংশ আসাদ-অনুগত বাহিনীর দখলে রয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে, কারণ ইজরায়েলি সেনার সামরিক পদক্ষেপ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আধিপত্যের উপর নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।

ইজরায়েলের বিমান ও স্থল অভিযান

সোমবার থেকে ইজরায়েলি বাহিনী সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোয় ধারাবাহিক বিমানহানা চালিয়েছে। বিভিন্ন সেনা শিবির, রাডার স্টেশন, ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণাগার এবং সামরিক সিগন্যাল কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। লন্ডনভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (SOHR)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় ইজরায়েল ৫০০-র বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা কাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

অন্যান্য গোষ্ঠীর সক্রিয়তা

ইজরায়েলের অগ্রগতির পাশাপাশি উত্তর ইরাকে কুর্দ মিলিশিয়া বাহিনী ‘সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স’ (এসডিএফ) সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা আসাদ বাহিনীর ফেলে যাওয়া কিছু অঞ্চল দখল করেছে। তুরস্ক সমর্থিত ‘সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ (এসএনএ) কুর্দদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। অন্যদিকে, মধ্য সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর তৎপরতা এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় পশ্চিমি দেশগুলোর সমর্থনপুষ্ট ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’-র নতুন করে সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সিরিয়ার ভবিষ্যৎ

এই পরিস্থিতিতে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী এইচটিএসের হাতে দামাস্কাসের দখল, ইজরায়েলি সেনার অগ্রগতি, এবং কুর্দ ও তুরস্ক সমর্থিত বাহিনীর সংঘর্ষ দেশটিকে আরও গভীর অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইজরায়েলের সামরিক তৎপরতা এবং নেতানিয়াহুর কৌশল কি আসলেই সিরিয়ার রাজনৈতিক পটভূমি পাল্টে দেবে? নাকি এটি মধ্যপ্রাচ্যের আরও বড় সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে?

সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে ইজরায়েলের হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চল যে আরও অস্থির এবং সংঘাতময় হয়ে উঠবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *