দাবদাহে হাঁসফাঁস ইউরোপ, কোথাও লাল সতর্কতা!
তীব্র তাপপ্রবাহে কার্যত বিপর্যস্ত ইউরোপের একাধিক দেশ। কোথাও জারি হয়েছে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সতর্কতা, কোথাও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আলোকসজ্জা। আবার কোথাও অসহনীয় গরম থেকে বাঁচতে মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন প্রাকৃতিক গুহায়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ইউরোপজুড়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে ইটালি। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রক দক্ষিণের সিসিলির পালেরমো থেকে উত্তরাঞ্চলের বোলজানো পর্যন্ত একাধিক শহরে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে। এই সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ শুধু প্রবীণ বা অসুস্থদের নয়, সুস্থ মানুষের জন্যও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রোম, ফ্লোরেন্স এবং অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও গরমে নাজেহাল স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকেরা। অনেককে ছাতা নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে দেখা যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ শহরের ফোয়ারার জলে হাত-মুখ ধুয়ে স্বস্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন। উত্তর ইটালির এমিলিয়া-রোমানিয়া অঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছুঁয়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে হাঙ্গেরি। পার্লামেন্ট ভবন, বুদা ক্যাসেল এবং ঐতিহাসিক চেইন ব্রিজ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় রাতের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ, দানিয়ুব নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপর চাপ কমাতেই এই সিদ্ধান্ত।
একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে রোমানিয়াও। রাজধানী বুখারেস্টে রাস্তার আলোর উজ্জ্বলতা কমানো হয়েছে এবং রাতের বেলা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও জাদুঘরের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা হয়েছে। দানিয়ুব নদীর জল কমে যাওয়ায় পারমাণবিক চুল্লিতে প্রয়োজনীয় জল সরবরাহ বজায় রাখার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, জার্মানির রাইন নদীর জলস্তর নেমে যাওয়ায় পণ্য পরিবহণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। কম জল থাকায় অনেক নৌযানকে পূর্ণ ক্ষমতায় চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিবহণ ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, গরম থেকে বাঁচতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার দক্ষিণে অবস্থিত ইউনেস্কো স্বীকৃত ভিয়েত্রেনিকা গুহায় ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকেরা। বাইরে যখন তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন এই গুহার ভেতরে সারা বছরই প্রায় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। সেই কারণেই এটি এখন মানুষের কাছে স্বস্তির আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে অবশ্য সেখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছরের ভয়াবহ দাবদাহ ও দাবানলের জেরে ইউরোপে ইতিমধ্যেই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রান্স, স্পেন, বুলগেরিয়াসহ একাধিক দেশে দাবানলের ঝুঁকিও বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যে ক্রমশ আরও গভীর হচ্ছে, ইউরোপের বর্তমান পরিস্থিতি তারই আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।