দশেরার পরই দিল্লিতে বায়ুদূষণের ধাক্কা!
দশেরার উৎসবের পরই দিল্লির বায়ুর গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ল। বুধবার রাজধানীর বাতাসের গুণমানের সূচক (AQI) পৌঁছল ২৪৪-এ, যা ‘খারাপ’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় দূষণ নিয়ন্ত্রণের নির্ধারিত ব্যবস্থার প্রথম ধাপ গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP-1) কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক দিনে বাড়ল দিল্লির AQI
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (CPCB) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১০টায় দিল্লির গড় AQI ছিল ২৩৮। দুপুর ২টো নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৪৪। এর আগের দিন, মঙ্গলবার এই সূচক ছিল ১৭৯। অর্থাৎ, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বায়ুর গুণমান খারাপের দিকে গিয়েছে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (CAQM) বুধবার এ বিষয়ে নির্দেশিকা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্ধারিত পদক্ষেপ কার্যকর করতে বলেছে। দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিংহ সিরসাও সমাজমাধ্যমে নাগরিকদের নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন।
AQI কত হলে বাতাসের মান কেমন?
০–৫০: ভালো
বায়ুর গুণমান ভালো
৫১–১০০: সন্তোষজনক
সাধারণত গ্রহণযোগ্য
১০১–২০০: মাঝারি
সংবেদনশীল ব্যক্তিদের সমস্যা হতে পারে
২০১–৩০০: খারাপ
দিল্লির বুধবারের AQI এই পর্যায়ে
৩০১–৪০০: খুব খারাপ
৪০১–৫০০: গুরুতর
AQI-এর প্রচলিত ভারতীয় শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী।
GRAP-1 জারি হলে কী কী নিয়ম মানতে হবে?
দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে একাধিক পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে—
- রাস্তার ধুলো নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত রাস্তা পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জল ছিটানো।
- নির্মাণস্থলে সতর্কতা: নির্মাণ ও ভাঙার কাজে ধুলো যাতে কম ছড়ায়, তার ব্যবস্থা করা।
- বর্জ্য পোড়ানো বন্ধে নজরদারি: খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানো রুখতে পদক্ষেপ করা।
- দূষণকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: নির্গমন সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙা যানবাহনের বিরুদ্ধে নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আবর্জনা যথাযথ ভাবে সংগ্রহ ও নিষ্কাশন করা।
পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিংহ সিরসা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে ধুলো, বর্জ্য পোড়ানো এবং দূষণকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। কোথাও নিয়ম লঙ্ঘন হলে তা প্রশাসনকে জানাতেও নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে।
দূষণের মধ্যে কী ভাবে সতর্ক থাকবেন?
বাতাসের গুণমান খারাপ থাকলে শিশু, প্রবীণ এবং হাঁপানি বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বাইরে শরীরচর্চা কমানো, দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে দীর্ঘক্ষণ বাইরে না থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। শ্বাসকষ্ট বা বুকে অস্বস্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দিল্লির AQI আপাতত ‘খারাপ’ পর্যায়ে থাকায় দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর। একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চলাও দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।