থ্যালাসেমিয়া মাইনর নিয়ে মুখ খুললেন যোগিতা বিহানি, কতটা গুরুতর এই জিনগত রক্তরোগ?

থ্যালাসেমিয়া মাইনর নিয়ে মুখ খুললেন যোগিতা বিহানি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ খ্যাত অভিনেত্রী যোগিতা বিহানি সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি থ্যালাসেমিয়া মাইনরে আক্রান্ত। তাঁর এই স্বীকারোক্তির পর থেকেই রোগটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা…

July 20, 2026
1 min read

থ্যালাসেমিয়া মাইনর নিয়ে মুখ খুললেন যোগিতা বিহানি

‘দ্য কেরালা স্টোরি’ খ্যাত অভিনেত্রী যোগিতা বিহানি সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি থ্যালাসেমিয়া মাইনরে আক্রান্ত। তাঁর এই স্বীকারোক্তির পর থেকেই রোগটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, থ্যালাসেমিয়া মানেই স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সঠিক নয়। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া মাইনর থাকলে অধিকাংশ মানুষ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন।

থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত বা জিনগত রক্তজনিত রোগ। এই অবস্থায় শরীরে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না। ফলে রক্তে অক্সিজেন বহনের ক্ষমতা কমে গিয়ে রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণভাবে এই রোগের দু’টি ধরন রয়েছে— থ্যালাসেমিয়া মাইনর এবং থ্যালাসেমিয়া মেজর।

থ্যালাসেমিয়া মাইনর তুলনামূলকভাবে অনেক কম জটিল। এই অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষের কোনও বড় শারীরিক সমস্যা হয় না। অনেকেই জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের শরীরে এই জিন রয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা রক্তপরীক্ষার সময় ঘটনাচক্রেই বিষয়টি ধরা পড়ে। কারও কারও ক্ষেত্রে হালকা রক্তাল্পতা, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া বা দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও অনেকের আবার কোনও লক্ষণই থাকে না।

অন্যদিকে থ্যালাসেমিয়া মেজর অনেক বেশি গুরুতর। এই রোগে আক্রান্তদের শরীরে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি না হওয়ায় নিয়মিত রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

চিকিৎসকদের মতে, থ্যালাসেমিয়া মাইনর নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হল এটিকে গুরুতর অসুখ বলে মনে করা। বাস্তবে এই অবস্থায় অধিকাংশ মানুষ স্বাভাবিক শিক্ষা, চাকরি, খেলাধুলা, বিবাহ ও পারিবারিক জীবন নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারেন। তবে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, থ্যালাসেমিয়া সংক্রামক নয়। এটি স্পর্শ, খাবার, রক্তের সাধারণ সংস্পর্শ বা একসঙ্গে বসবাসের মাধ্যমে অন্যের শরীরে ছড়ায় না। যেহেতু এটি জিনগত রোগ, তাই বাবা-মায়ের কাছ থেকেই সন্তানের শরীরে আসে।

এই কারণেই সন্তান নেওয়ার আগে দম্পতির উভয়ের থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি বাবা ও মা— দু’জনেই থ্যালাসেমিয়া মাইনরের বাহক হন, তাহলে তাঁদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়া মেজরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজন হলে জেনেটিক কাউন্সেলিং নেওয়ারও পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

বিশেষজ্ঞদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হল, থ্যালাসেমিয়া মাইনর ধরা পড়লেই নিজের ইচ্ছেমতো আয়রনের ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। অনেকেই রক্তাল্পতা ভেবে আয়রন সাপ্লিমেন্ট শুরু করে দেন। কিন্তু থ্যালাসেমিয়া মাইনরের ক্ষেত্রে সবসময় আয়রনের ঘাটতি থাকে না। তাই রক্তপরীক্ষায় আয়রনের মাত্রা নিশ্চিত হওয়ার পরই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া উচিত।

যোগিতা বিহানির মতো বহু মানুষ থ্যালাসেমিয়া মাইনর নিয়েও সম্পূর্ণ সক্রিয় ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তাই এই রোগ নিয়ে অযথা আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *