তোলাবাজি রুখতে কড়া বার্তা অর্জুন সিংহের, ‘শুধু সতর্ক নয়
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তোলাবাজির অভিযোগে অস্বস্তিতে বিজেপি। বিরোধী থাকাকালীন যে ইস্যুতে দল সবচেয়ে বেশি সরব ছিল, এখন সেই অভিযোগই শাসকদলের বিরুদ্ধে উঠতে শুরু করায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু সতর্কবার্তা নয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুললেন রাজ্যের শ্রম ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ।
উত্তরবঙ্গ সফরে থাকা অর্জুন মঙ্গলবার দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন চা-বাগান এবং শ্রম ভবন পরিদর্শনের ফাঁকে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “শুধু উষ্মা প্রকাশ করে লাভ নেই। যাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে দল থেকেই বহিষ্কার করা উচিত।” তাঁর মতে, এই ধরনের কাজ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থায় আঘাত হানছে।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বিজেপি কর্মীর পরিচয় দিয়ে বালিভর্তি লরি থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যদিও ওই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, তবু ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
এই ইস্যুতে এর আগেও দলের একাধিক শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি দলীয় নেতা-কর্মীদের ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আচরণে পরিবর্তন না এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও স্বীকার করেছেন, তোলাবাজির প্রবণতা দলের কিছু সদস্যের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালও একই সুরে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলের অবস্থান স্পষ্ট এবং কোনও অভিযোগকে হালকাভাবে দেখা হবে না।
এরই মধ্যে কোচবিহারের দিনহাটায় তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে প্রকাশ্য বিক্ষোভের ঘটনাও সামনে এসেছে। স্থানীয় এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ কর্মীরা কাঁচা ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানান। সেই ঘটনাও রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী অবস্থায় দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা বিজেপির কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সেই কারণেই অর্জুন সিংহের মতো নেতার প্রকাশ্য কড়া বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু সতর্কবার্তা নয়, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপই দলের ভাবমূর্তি রক্ষার একমাত্র পথ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?