জিয়াগঞ্জের চাঁদে মন মজানো ব্রিটিশ গায়ক!
প্রথম শ্রবণেই প্রেম। না, কোনও সিনেমার দৃশ্য নয়— এ যেন বাস্তব জীবনের এক সুরেলা গল্প। ব্রিটেনের বিশ্ববিখ্যাত গায়ক এড শিরনের হৃদয়ে প্রথম বীণার ঝঙ্কার তুলেছিল এক হিন্দি গান— ‘তুম হি হো’। সেই এক গানেই মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি, আর তাঁর সেই মুগ্ধতা ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক আন্তর্জাতিক সঙ্গীত সহযোগিতায়, যার পরিণতি— ‘সাফায়ার’।
এড শিরনের এই সফরের সূচনা কিন্তু বহু দূরের এক ছোট শহর থেকে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার শান্ত শহর জিয়াগঞ্জ, যেখানে গঙ্গার বুক চিরে সূর্য ডোবে আর উঠতি চাঁদের আলোয় মেতে ওঠে রাত। সেই শহরেরই এক ঘরের ছেলে, অরিজিৎ সিংহ, যিনি বলিউডের সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ের স্পন্দন। এড শিরনের চোখে তিনিই এক পরিপূর্ণ শিল্পী, যাঁর কণ্ঠে লুকিয়ে রয়েছে যাদু।
২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আশিকি ২’ দেখেই অরিজিতের প্রতি অনুরক্ত হন এড। সে সময় থেকেই শুরু হয় তাঁকে খুঁজে পাওয়ার অভিযান। প্রথম সাক্ষাৎ হয় লন্ডনে, এক সঙ্গীত অনুষ্ঠানে। সেখানেই শুরু হয় তাদের মেলবন্ধন— মঞ্চে গান গাওয়া থেকে ড্রেসিংরুমে নতুন প্রজেক্টের আলোচনা। এড শোনান ‘সাফায়ার’-এর প্রথম খসড়া। অরিজিৎ সঙ্গে সঙ্গে তাতে সুর আর যন্ত্রানুষঙ্গ নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেন। এরপর ই-মেলের মাধ্যমে চলতে থাকে আদানপ্রদান।
কিন্তু এড চেয়েছিলেন শুধু ভার্চুয়াল মেলবন্ধন নয়, বাস্তবের অভিজ্ঞতা। তাই তিনি নিজেই পাড়ি দেন ভারতে। কলকাতা হয়ে পৌঁছে যান জিয়াগঞ্জে। সেখানে স্কুটিতে চড়ে, গঙ্গার বুকে সূর্যাস্ত দেখে, গ্রাম্য রাতে ঘুরে বেড়িয়ে, তিনি শুধু গান শেষ করেননি— রচনা করেছেন এক অনুভবের কাব্য। সে সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন পিতা। বাবার সঙ্গে সেই সূর্যাস্ত দেখা, রাতের চাঁদের আলোয় ঘোরা— এড শিরনের স্মৃতির পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এডের দাবি, তিনি এই সফরে শিখেছেন পঞ্জাবি উচ্চারণ, পেয়েছেন ভারতীয় সংস্কৃতির ঘনিষ্ঠ ছোঁয়া, আর অরিজিৎ সিংহকে পেয়েছেন জীবনের এক দুর্লভ সঙ্গী হিসেবে। অরিজিৎ তাঁর চোখে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান শিল্পী।
‘সাফায়ার’ গানটি ইতিমধ্যেই ঝড় তুলেছে সারা বিশ্বে। তার মিউজিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে শাহরুখ খানকেও, যাঁকে এড শিরন ভালোবাসার বার্তা দিয়ে লিখেছেন, “এই মানুষটিকে আমি ভালবাসি।” ‘সাফায়ার’-এর একটি পঞ্জাবি সংস্করণও শিগগিরই প্রকাশ পেতে চলেছে।
এক হিন্দি গান থেকে শুরু হওয়া প্রেম, তা পৌঁছেছে বাংলার জলে, মাটিতে, আকাশে। অরিজিৎ ও এডের এই সুরেলা জুটি আজ সঙ্গীত জগতের নতুন উদাহরণ। জিয়াগঞ্জের চাঁদ, গঙ্গার ঢেউ আর দুই শিল্পীর হৃদয়ের বন্ধন— ‘সাফায়ার’ যেন শুধুই গান নয়, এক আবেগময় সংলাপ।
৪০ বছর পরে ফের এক ভারতীয় মহাকাশে! শুভাংশুকে নিয়ে উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে তুঙ্গে ‘ড্রাগন