‘তারানাথ তান্ত্রিক’ ফিরছেন বড় পর্দায়!
অন্ধকার ঘনিয়ে এলে, ধুনির আগুনে চোখেমুখে প্রতিফলিত হয় আগুনের লেলিহান শিখা। পাশেই শ্মশান—এক রহস্যময় আবহ। এমনই এক দৃশ্যের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ‘তারানাথ তান্ত্রিক’-কে, যিনি এবার ফিরছেন বড় পর্দায়। ছোট পর্দা কিংবা ওয়েব সিরিজ নয়—সরাসরি বড় পর্দায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী এই চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলছেন অভিনেতা সপ্তর্ষি মৌলিক। সদ্য ভাগ করা একটি ছবিতে সপ্তর্ষির ‘তারানাথ’ যেন অদ্ভুতভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছে দর্শকদের প্রিয় ভাদুড়িমশাইকে।
ভাদুড়িমশাই, অর্থাৎ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের তান্ত্রিক চরিত্র ‘পর্ণশবরীর শাপ’-এ যিনি দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। সেই জনপ্রিয় তান্ত্রিকের স্মৃতি উসকে দিয়ে এবার এক নতুন মুখ, এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে ফিরছেন তারানাথ। তবে এ তারানাথ তখনও সংসারী, বৈরাগ্যের টান আস্তে আস্তে গ্রাস করছে তাঁকে। স্বপ্নে দেখা দিচ্ছে মাতু পাগলি, যার পরিচয় অজানা। কে সে? কেনই বা সে ডাকে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ধুনির সামনে, শ্মশানের নীরবতায় তপস্যায় বসে পড়ছেন তারানাথ।
এই অনন্য আবহে নির্মিত হচ্ছে বাংলা অ্যান্থলজি ছবি ‘ভূতপূর্ব’, যেখানে তিনটি ভৌতিক গল্প একত্রিত হয়েছে—রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মণিহারা’, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ এবং মনোজ সেনের ‘শিকার’। এই ছবির মূল কথক তথা সূত্রধর হিসেবে থাকছেন তারানাথ চরিত্রে সপ্তর্ষি। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন সন্দীপ্তা সেন, রূপাঞ্জনা মিত্র, অভিজিৎ গুহ, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, সত্যম ভট্টাচার্য এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পরিচালনায় কাকলি ঘোষ ও অভিনব মুখোপাধ্যায়।
এই ভূমিকায় সপ্তর্ষির অভিনয় কি টোটা রায়চৌধুরীর ‘তারানাথ’-এর সঙ্গে তুলনা টানবে দর্শক? প্রশ্ন উঠতেই অভিনেতা সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, “দুটি চরিত্রের বয়স, মনস্তত্ত্ব, ব্যাকড্রপ সবই আলাদা। টোটা দার চরিত্রটি পরিণত ও অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। আর আমার তারানাথ তখনও সংসারজীবনে জড়ানো, আত্মানুসন্ধানে সদ্য পা রাখা এক মানব। তাই তুলনার অবকাশ নেই।”
তবে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা যে চিরস্মরণীয়, সে কথা অকপটে স্বীকার করেছেন সপ্তর্ষি। “সেটে ধুনির সামনে বসে তপস্যার দৃশ্য করা আর বাস্তবে শ্মশান সংলগ্ন জায়গায় শুটিং করা সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা। আগুনের তাপে চোখ মুখ ঝলসে যাচ্ছিল, সেই মুহূর্তে অনুভব করছিলাম এক তীব্র তান্ত্রিক আবেশ। চরিত্রটা যেন আমার ভেতর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল,”—বলেছেন অভিনেতা।
এই ছবির প্রতি নিজের আস্থার কথাও জানান সপ্তর্ষি। নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ, অভিজ্ঞ ও নবীন অভিনেতাদের সম্মিলন, এবং সবচেয়ে বড় কথা—গল্প বলার অভিনব ভঙ্গিমা তাঁকে আকর্ষণ করেছে। “গল্পটা যদি আমায় টানে, তবে আমি বিশ্বাস করি দর্শকদেরও টানবে,”—এভাবেই নিজের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনটি অদ্ভুতুড়ে গল্পের সংমিশ্রণ, আর তাতে কেন্দ্রীয় সুতোর মতো জড়িয়ে থাকা এক তান্ত্রিক—এই মিশ্রণ কি বাংলার দর্শকদের ফের টেনে আনবে প্রেক্ষাগৃহে? সপ্তর্ষি এবং গোটা টিম কিন্তু আশায় বুক বেঁধেই এগিয়ে চলেছেন।
টাটকা লাউ কিনবেন কীভাবে? চেনুন কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক মেশানো সব্জি