তাইচি ওয়াকিং!
তাইচি প্রাচীন চিনা মার্শাল আর্টের একটি ধারা, যেখানে ধীর, নিয়ন্ত্রিত ও সচেতন চলাফেরার উপর জোর দেওয়া হয়। সেই ভাবনা থেকেই তৈরি তাইচি ওয়াকিং। সাধারণ হাঁটার মতো দ্রুত পা চালানোর বদলে এখানে শরীরের ভারসাম্য, শ্বাসপ্রশ্বাস এবং প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে শরীরের ওজনের স্থানান্তরের দিকে নজর দিতে হয়।
কী ভাবে করবেন তাইচি ওয়াকিং?
প্রথমে পা দু’টির মধ্যে সামান্য দূরত্ব রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। তার পর ধীরে হাঁটা শুরু করুন। প্রথমে গোড়ালি মাটিতে রাখুন, তার পরে পায়ের আঙুল। একটি পা মাটিতে পড়ার সময় শরীরের ভার সেই পায়ে স্থানান্তর করুন এবং অন্য পা হালকা রাখুন।
প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে শ্বাসপ্রশ্বাসের ছন্দ বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে দু’টি হাতও স্বাভাবিক ভাবে সেই ছন্দে নাড়াতে হবে। ফলে হাঁটার পাশাপাশি মনোযোগও ধরে রাখা যায়।
৫০-এর পর কেন উপকারী হতে পারে?
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি ও হাড়ের শক্তি কমতে পারে এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। তাইচি ওয়াকিং তুলনামূলক ভাবে লো-ইমপ্যাক্ট হওয়ায় দ্রুত দৌড় বা উচ্চ-প্রভাবের ব্যায়ামের বিকল্প হিসেবে অনেকে এটিকে বেছে নিতে পারেন।
এর সম্ভাব্য সুবিধাগুলি হল—
- পায়ের পেশি ও কোর মাসল সক্রিয় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
- শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
- হাঁটু ও কোমরের মতো অস্থিসন্ধিকে সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে।
- ধীর গতি ও শ্বাসপ্রশ্বাসের সমন্বয় মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
- নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসের মাধ্যমে শরীরের সামগ্রিক সক্রিয়তা বজায় রাখা যায়।
- বিশেষ কোনও সরঞ্জাম বা জিমের প্রয়োজন হয় না; বাড়ির উঠোন বা ছাদেও অনুশীলন করা সম্ভব।
তাহলে কি ওজনও কমবে?
তাইচি ওয়াকিংয়ের মূল লক্ষ্য সরাসরি ওজন কমানো নয়। বরং শরীরকে সক্রিয় রাখা, ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মানসিক ভাবে শান্ত থাকার উপর এর বেশি জোর।
তাই ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সে এটি দৈনন্দিন রুটিনে ১০–১৫ মিনিটের একটি হালকা শারীরিক অনুশীলন হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, তীব্র অস্থিসন্ধির সমস্যা বা ভারসাম্যের সমস্যা থাকলে নতুন ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।