তাইওয়ান ঘিরে ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’!
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে চিনের সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতে ব্যস্ত, তখন সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাইওয়ানের উপর চাপ বাড়াতে পারে বেজিং। আর এই চাপের পেছনে থাকতে পারে এক বিশেষ কৌশল—যাকে বলা হচ্ছে ‘অ্যানাকোন্ডা স্ট্র্যাটেজি’।
চিন দীর্ঘদিন ধরেই ‘এক চিন নীতি’-তে বিশ্বাসী। তাদের মতে, তাইওয়ান আলাদা দেশ নয়, বরং চিনেরই অংশ। এই লক্ষ্য পূরণে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং—এমনটাই দাবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের।
তবে সরাসরি যুদ্ধ নয়, বরং ধীরে ধীরে ঘিরে ফেলার কৌশলেই এগোতে পারে চিন। ঠিক যেমন অ্যানাকোন্ডা সাপ তার শিকারকে শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরে, শ্বাসরোধ করে ফেলে—তেমনই তাইওয়ানকে ঘিরে ফেলতে পারে চিনের সেনা, নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা।
কী এই ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’?
এই কৌশলে সরাসরি হামলা নয়, বরং ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হয়। গত কয়েক বছরে তাইওয়ানের চারপাশে চিনা যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা বেড়েছে। আকাশসীমায় অনুপ্রবেশও বাড়ছে। মাঝে মাঝেই বড়সড় সামরিক মহড়া চালানো হচ্ছে, যা মূলত মানসিক চাপ তৈরিরই অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য হল তাইওয়ানকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। সমুদ্রপথে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বন্ধ করে দিলে দ্বীপটি বড় সংকটে পড়তে পারে। তখন অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়বে, যা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
সাইবার যুদ্ধ ও তথ্যযুদ্ধের আশঙ্কা
শুধু সামরিক শক্তি নয়, প্রযুক্তিও এই কৌশলের বড় অস্ত্র হতে পারে। সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করা সম্ভব। পাশাপাশি ভুয়ো খবর ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করাও একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়বে এবং প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি হবে—যা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধ দুর্বল করতে পারে।
চিনের হিসাব-নিকাশ
তবে সরাসরি যুদ্ধের পথে না যাওয়ার পিছনে চিনের নিজস্ব কারণও রয়েছে। তাইওয়ান বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরু হলে সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা চিনের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হবে।
এ ছাড়া, সরাসরি হামলা করলে আমেরিকা ও পশ্চিমি দেশগুলির কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বেজিং—যেমনটা রাশিয়ার ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল।
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, তাইওয়ান শুধু একটি ভূ-রাজনৈতিক বিষয় নয়—বিশ্ব অর্থনীতি, প্রযুক্তি শিল্প এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
সব মিলিয়ে, ‘অ্যানাকোন্ডা কৌশল’ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে তা সময়ই বলবে। তবে এটা স্পষ্ট, সরাসরি যুদ্ধ না হলেও চাপের এই ধীর খেলা বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।