তাইওয়ানকে ঘিরে চিনের ‘রণতরী অভিযান’: প্রশান্ত মহাসাগরে যুদ্ধের মেঘ!

তাইওয়ানকে ঘিরে চিনের ‘রণতরী অভিযান’ তাইওয়ান ঘিরে ফের আগ্রাসী হয়ে উঠেছে চিন। মে মাসজুড়ে দুইটি বিমানবাহী রণতরী, ৭০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও ডজনখানেক যুদ্ধবিমান নিয়ে ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’ (PLA) তাইওয়ানকে কার্যত…

June 4, 2025
1 min read

তাইওয়ানকে ঘিরে চিনের ‘রণতরী অভিযান’

তাইওয়ান ঘিরে ফের আগ্রাসী হয়ে উঠেছে চিন। মে মাসজুড়ে দুইটি বিমানবাহী রণতরী, ৭০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও ডজনখানেক যুদ্ধবিমান নিয়ে ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’ (PLA) তাইওয়ানকে কার্যত ঘিরে ফেলে। এই ঘটনায় শুধুমাত্র তাইওয়ানই নয়, উত্তেজনা বেড়েছে পুরো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে।

তাইওয়ানের সামরিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ১ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত দক্ষিণ চিন সাগর ও পীত সাগরে PLA-র বিশাল নৌবহর সক্রিয় ছিল। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, দ্বীপরাষ্ট্রটির চারপাশে মিয়াকো প্রণালী হয়ে জাপান সীমান্ত পর্যন্ত আগ্রাসন চালায় ড্রাগনের নৌসেনা। এই ভূ-রাজনৈতিক এলাকা কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

সেনা কর্তারা জানিয়েছেন, চিন মূলত দুইটি কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে— এক, নৌ-অবরোধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি এবং দুই, তাইওয়ানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে চাপে ফেলে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। শুধু নৌ-প্রদর্শনী নয়, PLA নিয়মিত লড়াকু বিমান পাঠিয়েছে তাইওয়ানের আকাশসীমা অতিক্রম করে, যার অধিকাংশই বিমানবাহী রণতরী থেকে উড়ান ভরেছে।

জাপানও এ হেন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। মিয়াকো প্রণালীতে তাদের উপকূলরক্ষী বাহিনীর মুখোমুখি হয় চিনা যুদ্ধজাহাজ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। সেইসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সিঙ্গাপুরে ‘শাংগ্রি-লা’ নিরাপত্তা সম্মেলনে বলেন, “চিন এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে চাইছে এবং এই হুমকি গোটা বিশ্বের জন্যই বিপজ্জনক।”

চিন অবশ্য পাল্টা দাবি করেছে, PLA মহড়া চালাচ্ছে বৈধ কারণেই, আর আমেরিকার তরফেই শান্তি বিনষ্টের চক্রান্ত চলছে। বেজিং ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে জানায়, “আগুন নিয়ে খেলবেন না।”

এই ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মার্কিন সেনা অফিসার রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সৈন্য মোতায়েন ও অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ ছাড়া তাইওয়ানকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। একইসঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, আমেরিকার বিক্রি করা বহু সামরিক সরঞ্জাম এখনও হাতে পায়নি তাইপে।

চিন বরাবরই তাইওয়ানকে তাদের দেশের অংশ বলে দাবি করে এসেছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্পষ্ট বলেছেন, “তাইওয়ান একদিন চিনের সঙ্গে একত্রীত হবেই।” অন্যদিকে জাপান এবং আমেরিকা চিনের এই দাবিকে মানতে নারাজ।

বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান দখল চিনের প্রশান্ত মহাসাগরীয় আধিপত্য বিস্তারের প্রথম ধাপ। এই প্রেক্ষাপটে ‘সুপার পাওয়ার’ আমেরিকা ও চিনের মুখোমুখি সংঘাতে বিশ্ব আরও একবার উত্তাল হতে চলেছে।

পাতিলেবু খেলে মাইগ্রেন কমে? ডাক্তাররা যা বলছেন ভাইরাল টোটকা নিয়ে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *