ঢাকায় বিক্ষোভের প্রস্তুতি
বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর রবিবার প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নামছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। দলটির পক্ষ থেকে ঢাকায় শহিদ নূর হোসেন চত্বরে একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। মিছিলটি আয়োজন করার সময় নির্ধারিত হয়েছে ভারতীয় সময় অনুযায়ী দুপুর আড়াইটায়। এই কর্মসূচি নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে, কারণ আওয়ামী লীগের এ ধরনের মিছিলের জন্য কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি।
শনিবার থেকেই ঢাকায় পুলিশের ধরপাকড় শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আওয়ামী লীগের ১০ জন সমর্থককে গ্রেফতার করেছে। এদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত কিছু প্ল্যাকার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অংশে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’ (বিজিবি)-র ১৯১টি প্ল্যাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকায় দ্বৈত কর্মসূচি: উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে শহিদ নূর হোসেন চত্বর
রবিবার ঢাকার রাজপথে শুধু আওয়ামী লীগের কর্মসূচিই নয়, একই সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দুই পক্ষের কর্মসূচি একে অপরের থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বে অনুষ্ঠিত হবে। শহিদ নূর হোসেন চত্বর থেকে আওয়ামী লীগের মিছিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কাছাকাছি একটি স্থানে ‘ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ মঞ্চ’ নামে গণজমায়েত আয়োজন করেছে। দুপুর ১২টা নাগাদ এই গণজমায়েত শুরু হয়েছে এবং সেখানে আন্দোলনকারীরা হাসিনা বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারিজস আলমেরাও এই কর্মসূচিতে উপস্থিত রয়েছেন। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, এবং রবিবারের এই রাজনৈতিক মিছিল এবং পাল্টা কর্মসূচি ঢাকার রাজপথকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান
আওয়ামী লীগের এই প্রতিবাদ মিছিল ঠেকাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সজীব ভূঁইয়া সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে লিখেছেন, “যদি গণহত্যাকারী কেউ কর্মসূচি করার চেষ্টা করে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।” সরকারের এই বার্তা মূলত আওয়ামী লীগ এবং এর সমর্থকদের জন্য হুঁশিয়ারি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শনিবার রাত থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযান চলতে থাকে। ‘অবৈধ’ মিছিল এবং জমায়েতের চেষ্টার অভিযোগে মোট ১০ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের থেকে উদ্ধার করা প্ল্যাকার্ডে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি থাকায় রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক ট্রাম্পের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে ঢাকার পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছিল। যদিও পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।
রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিণতি: বিজিবির মোতায়েন
বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রথম প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বেড়ে গেছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো সংঘর্ষ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়াতেই বিজিবির মতো শক্তিশালী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ এবং বিজিবির ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।