ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতি: আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ১২ দেশের, আংশিক নিষেধ ৭টি দেশের নাগরিকের ওপর

ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতি! যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৫ সালে নির্বাচনী প্রচারে ফের হাওয়া লাগতেই এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে সই করলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। এক প্রশাসনিক…

June 5, 2025
1 min read

ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতি!


যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৫ সালে নির্বাচনী প্রচারে ফের হাওয়া লাগতেই এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে সই করলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। এক প্রশাসনিক নির্দেশিকার মাধ্যমে তিনি আমেরিকায় প্রবেশের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলেন ১২টি দেশের নাগরিকদের জন্য। পাশাপাশি আরও সাতটি দেশের উপর চাপানো হয়েছে আংশিক নিষেধাজ্ঞা।

ওয়াশিংটন যদিও পুরোপুরি ব্যাখ্যা করেনি এই সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ, তবে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন পদক্ষেপ। ট্রাম্প নিজে এক সমাজমাধ্যম পোস্টে লেখেন, “আমরা এমন দেশের নাগরিকদের ঢুকতে দিতে পারি না, যেখান থেকে আসা মানুষদের সম্পর্কে আমরা নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্যভাবে কোনও যাচাই করতে পারি না। সে কারণেই এই নতুন নিষেধাজ্ঞা।”

এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় ট্রাম্প উল্লেখ করেন কলোরাডোর সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরণের ঘটনার কথা। যেখানে মিশরের এক নাগরিক একটি শপিং মলের সামনে আগুন নিক্ষেপ করেন এবং ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই প্রয়োজন কঠোর অভিবাসন নীতি।

আগামী ৯ জুন থেকে যে ১২টি দেশের নাগরিকরা আর আমেরিকায় ঢুকতে পারবেন না, সেগুলি হল—আফগানিস্তান, মায়ানমার, চাদ, কঙ্গো, ইকিউটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেন। একই সঙ্গে বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান এবং ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের উপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে, যার ফলে এদের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্তে প্রবেশের সুযোগ মিলতে পারে।

হোয়াইট হাউসের মতে, এই দেশগুলির অনেকগুলিতেই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে রাষ্ট্রীয় মদতের অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তোলা হয়েছে তালিবান-শাসিত আফগানিস্তান, ইরান কিংবা কিউবার নাম। অন্যদিকে, চাদ, ইরিত্রিয়ার মতো দেশগুলির নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা অনেক সময় ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমার লক্ষ্য ইসলামিক সন্ত্রাসবাদীদের প্রবেশ ঠেকানো। আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে এটাই একমাত্র পথ।” তাঁর এই ঘোষণার পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আবিগেল জ্যাকসন বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকান নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন। এই সিদ্ধান্ত সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষারই অংশ। কারণ বিদেশি কিছু দুষ্কৃতী আমাদের দেশকে ক্ষতি করতে চায় এবং আমরা তা হতে দিতে পারি না।”

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিশ্ব জুড়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ একে ‘জাতিগত প্রোফাইলিং’ বলে সমালোচনা করছেন, কেউ আবার ট্রাম্পের নিরাপত্তা-অবস্থানকে সমর্থন করছেন। তবে একাধিক মানবাধিকার সংগঠন এই নিষেধাজ্ঞাকে মানবাধিকারের পরিপন্থী বলে দাবি করেছে।

বাড়ির আতঙ্ক কাটিয়ে জীবন বদলের পথে করিনা: চুয়াল্লিশে পা দিয়েই নিলেন এক দৃঢ় সিদ্ধান্ত

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *