টুলু মণ্ডল কাণ্ডে বড় সাফল্য পুলিশের, উদ্ধার জাল ডিসিআর ছাপার যন্ত্র; ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ়

টুলু মণ্ডল কাণ্ডে বড় সাফল্য পুলিশের! বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে। টুলুর খোঁজ এখনও না মিললেও তাঁর ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদে জাল ডিসিআর…

August 3, 2026
1 min read

টুলু মণ্ডল কাণ্ডে বড় সাফল্য পুলিশের!

বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে। টুলুর খোঁজ এখনও না মিললেও তাঁর ঘনিষ্ঠদের জিজ্ঞাসাবাদে জাল ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট) চক্র, প্রশাসনের কিছু আধিকারিকের নাম-সহ একটি ডায়েরি এবং নকল রসিদ ছাপার যন্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে টুলু মণ্ডলের প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বীরভূম জেলা পুলিশ।

রবিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে টুলুর ব্যবসার ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার তাঁকে সিউড়ি আদালতে তোলা হলে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। তদন্তকারীদের দাবি, সীতেশকে জেরা করেই একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে, যেখানে প্রশাসনের একাধিক আধিকারিকের নাম লেখা রয়েছে। কেন সেই নামগুলি নথিভুক্ত করা হয়েছিল এবং ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে টুলুর ব্যবসার কোনও যোগ ছিল কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এখনও পর্যন্ত এই নামগুলির বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সীতেশের বয়ানের ভিত্তিতে জাল ডিসিআর ছাপার একটি যন্ত্র উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ, এই ভুয়ো রসিদ ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে পাথরের অবৈধ পরিবহণ ও চোরাচালান চালানো হত। সম্প্রতি মহম্মদবাজার এলাকায় একটি পাথরবোঝাই ডাম্পারের নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে ভূমি ও ভূমি-রাজস্ব দফতরের আধিকারিকেরা জাল ডিসিআরের হদিস পান। সরকারি নথিতে ওই ডিসিআর নম্বরের কোনও অস্তিত্ব না থাকায় পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তকারীদের ইঙ্গিত, সেই মামলাতেও টুলু মণ্ডলকে অভিযুক্ত করা হতে পারে।

বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, টুলুর নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্র কাজ করত বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তাঁর বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, স্থায়ী আমানত এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ় করা হয়েছে। এর মধ্যে টুলুর তুতো ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৫০ কোটি টাকার সোনা ও নগদ অর্থও রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, টুলুর নামে বা তাঁর নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪০০ বিঘা জমির উপর একাধিক বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। সেগুলির মালিকানা, অর্থের উৎস এবং অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের দাবি, দেশ ছেড়ে বিদেশে থাকার পরেও টুলু মণ্ডল ফোনের মাধ্যমে তাঁর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই নেটওয়ার্কে আর কারা যুক্ত ছিলেন, জাল ডিসিআর চক্র কত দূর বিস্তৃত এবং প্রশাসনের কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মামলায় এখনও তদন্ত চলছে। উদ্ধার হওয়া ডায়েরিতে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তাঁদের ভূমিকা সম্পর্কে পুলিশও এখনও চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *