টাটা ফেরানো থেকে শিক্ষার সংস্কার, রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ— নতুন দায়িত্বে কী বললেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রীরা?

টাটা ফেরানো থেকে শিক্ষার সংস্কার, রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ! পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। দায়িত্ব হাতে পেয়েই রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের…

June 11, 2026
1 min read

টাটা ফেরানো থেকে শিক্ষার সংস্কার, রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ!

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বণ্টন সম্পন্ন হয়েছে। দায়িত্ব হাতে পেয়েই রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের কথা জানাতে শুরু করেছেন নতুন মন্ত্রীরা। শিল্প, শিক্ষা এবং অর্থ— এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে ঘিরে তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে আগামী দিনের রূপরেখা।

নতুন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গকে আবারও বিনিয়োগ ও শিল্পের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে শিল্পায়নের গতি থমকে রয়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলাতে হলে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো জরুরি। বিশেষ করে টাটা গোষ্ঠীর মতো বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে আবার পশ্চিমবঙ্গে আনতে পারলে শিল্পমহলে ইতিবাচক বার্তা যাবে বলে মনে করেন তিনি।

তাপসের বক্তব্য, নতুন সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে জোর দেবে এবং বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেবে। তিনি দাবি করেন, অতীতে বহু বিনিয়োগ সম্মেলন হলেও তার বাস্তব ফল সাধারণ মানুষ খুব একটা দেখতে পাননি। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকায় শিল্পোন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও তাঁর মত।

অন্য দিকে, শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি ও অনিয়ম দূর করার অঙ্গীকার করেছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে নানা বিতর্ক ও দুর্নীতির কারণে রাজ্যের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

জগন্নাথের মতে, শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে গবেষণা, পাঠদান এবং পরিকাঠামোর উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণও দায়িত্ব গ্রহণের পর সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। নিজে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমে দফতরের বাস্তব পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। তার পরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ দিকে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্যের আর্থিক অবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, রাজস্ব আদায় বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হলেও সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো সমাধান নয়। বরং বর্তমান ব্যবস্থার ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে দক্ষতার সঙ্গে রাজস্ব সংগ্রহের পথ খুঁজতে হবে।

স্বপন জানান, অনেক ক্ষেত্রে করের হার না বাড়িয়েও রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক সংস্কার এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের মন্ত্রীরা দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই শিল্পায়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আর্থিক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এখন দেখার, ঘোষিত পরিকল্পনাগুলি বাস্তবে কতটা সফলভাবে কার্যকর করা যায়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *