জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবি বিরোধীদের, ভোট বাতিলের দাবিও উঠল

জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবি বিরোধীদের! নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের পরেই রাজনৈতিক চাপ বাড়ল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উপর। দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং…

September 23, 2026
1 min read

জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবি বিরোধীদের!

নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের পরেই রাজনৈতিক চাপ বাড়ল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উপর। দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই দিনে চার বারও আপত্তি জানানোর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন ভোটারদের নাম সংযোজন, নাম বাদ দেওয়া, ‘ফর্ম ৬’-এ পরিবর্তন এবং ভোটার-তালিকার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই কমিশনার প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁদের অভিযোগের মধ্যে ছিল, ভোটার সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ দিল্লিকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে এবং রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকদের ভূমিকা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলি বাতিল করে নতুন করে ভোট নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী নেতাও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর দাবি তুলেছেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও প্রতিবেদনটি ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাব কমিশনকেই দিতে হবে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগের মূল জায়গা হল—যদি দুই কমিশনার সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে থাকেন, তা হলে সেই আপত্তিগুলির নিষ্পত্তি কী ভাবে হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।

তবে নির্বাচন কমিশন অভ্যন্তরীণ ‘বিরোধ’ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনও একতরফা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ মেনে নেয়নি। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, এটি একটি বহু-সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে মতামত, পর্যবেক্ষণ বা প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিতে পারেন। মতপার্থক্য থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত নিয়ম এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।

কমিশন সূত্রের দাবি, বিশেষ করে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা SIR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলিও তিন কমিশনারের অনুমোদনেই নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সংবাদ প্রতিবেদনে যে আপত্তির কথা উঠে এসেছে, তা কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ভিন্নমতের প্রতিফলন নয়—এমনটাই তাদের বক্তব্য।

অন্য দিকে, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে উঠে আসা নথি ও দুই কমিশনারের আপত্তিকে সামনে রেখে বিরোধীরা তদন্তের দাবি তুলছে। ফলে এখন মূল প্রশ্ন, কমিশনের ভিতরে নথিভুক্ত আপত্তিগুলির প্রকৃতি কী ছিল এবং সেগুলি কী ভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। এক দিকে বিরোধীদের রাজনৈতিক অভিযোগ, অন্য দিকে কমিশনের ‘সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত’ দাবি—এই দুই বক্তব্যের মধ্যেই আপাতত বিতর্ক ঘনীভূত হয়েছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *