জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মমতা!
তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে বিতর্ক এ বার পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পর শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশ্লিষ্ট মামলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকেও পক্ষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নথিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলাটি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের দলীয় পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে এই টানাপড়েন শুরু হয়। কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে আপাতত জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ়’ করা হয়েছে। পরে শুক্রবার দুই শিবিরের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীকও চূড়ান্ত করে কমিশন। মমতা-শিবিরের নাম রাখা হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাঁদের প্রার্থীরা ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকে লড়বেন। ঋতব্রত-শিবিরের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’, তাঁদের প্রতীক ‘খাম’।
এই সিদ্ধান্তের পরেই আইনি পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয় মমতা শিবির। সুপ্রিম কোর্টের নথি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা W.P.(C) No. 129/2026 হিসেবে নথিভুক্ত এবং প্রতিপক্ষ নির্বাচন কমিশন। মামলাটি প্রধান বিচারপতির আদালতে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
রাজ্য রাজনীতিতেও শুক্রবার একের পর এক ঘটনা ঘটে। কমিশনের সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নন্দীগ্রামে মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পথে এগোন। পরে তিনি নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন।
এর পর সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, দলের নাম ও প্রতীক কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অতীতে শিবসেনা এবং এনসিপির দলীয় প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গও টানেন মমতা।
তাঁর অভিযোগের মধ্যে ছিল নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং বিধানসভা ভোটের গণনা নিয়েও একাধিক দাবি। গণনার সময় তাঁদের কাউন্টিং এজেন্টদের সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে কমিশনের পাল্টা বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
এ দিকে জোড়াফুল প্রতীক হারানোর পর উপনির্বাচনের লড়াই কার্যত নতুন সমীকরণে ঢুকে পড়েছে। দুই শিবিরই এখন আলাদা নাম ও প্রতীক নিয়ে ভোটে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া সেই সংঘাতকে আরও একটি আইনি মাত্রা দিল। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালত কী অবস্থান নেয়, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।