জেলা স্তরে আরও কড়া নিয়ন্ত্রণে বিজেপি!
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলের পর বিজেপি এবার সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল জেলায় জেলায় নতুন কোর কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছিল জল্পনা। প্রথমে অনেকে মনে করেছিলেন, জেলা সভাপতিদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কমাতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে, এর লক্ষ্য আরও বড়— প্রশাসন ও সংগঠনের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় তৈরি করা।
গত ১৫ মে বনসল নির্দেশ দেন, ২৫ মের মধ্যে প্রতিটি সাংগঠনিক জেলায় কোর কমিটি তৈরি করতে হবে। বিজেপি সূত্রে খবর, প্রায় সব জেলাতেই সদস্যদের নাম চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এই কমিটিতে থাকবেন জেলা সভাপতি, জেলা পর্যবেক্ষক, সাধারণ সম্পাদকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কেরা।
বিজেপির অন্দরমহলের মতে, নতুন এই কোর কমিটি আসলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগের সেতু হিসেবেই কাজ করবে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বহু পুরসভা ও পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক অচলাবস্থার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও জনপ্রতিনিধিরা নিষ্ক্রিয়, কোথাও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতারি, আবার কোথাও গণইস্তফার ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় স্তরে সরকারি পরিষেবা সচল রাখার দায়িত্ব অনেকটাই বর্তেছে বিধায়কদের উপর।
সেই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এই কোর কমিটি। দলীয় নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং স্থানীয় সমস্যার তথ্য— সব কিছু যাতে দ্রুত সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আদানপ্রদান হয়, সেটাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজেপির একাংশের মতে, এ বার নির্বাচনে বহু গুরুত্বপূর্ণ সংগঠককে টিকিট দেওয়া হয়নি। অন্য দিকে, যাঁরা বিধায়ক হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই। ফলে সংগঠন ও প্রশাসনিক কাজ আলাদা পথে হাঁটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। নতুন কোর কমিটি সেই দূরত্ব কমাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ আবার এই পদক্ষেপের মধ্যে বাম আমলের সাংগঠনিক মডেলের ছাপ দেখছেন। সেই সময় সরকার ও দলের মধ্যে দৃশ্যত আলাদা সীমারেখা থাকলেও প্রশাসনের উপর দলের প্রভাব নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। বিজেপির নতুন কোর কমিটি ভবিষ্যতে একই ধরনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও বিজেপির নেতারা বলছেন, এর মূল উদ্দেশ্য উন্নয়নমূলক কাজ ও প্রশাসনিক পরিষেবা আরও মসৃণ করা। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নতুন কাঠামো জেলায় জেলায় বিজেপির সাংগঠনিক প্রভাব যেমন বাড়াবে, তেমনই স্থানীয় প্রশাসনের উপরও দলের নজরদারি আরও শক্তিশালী করবে।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা