জেএনইউয়ের পর এবিভিপি-র চোখ এবার ‘যদুবংশে’: যাদবপুরে বাড়ছে গেরুয়া ছায়া, বাম শিবিরে আত্মসমালোচনার ঢেউ

জেএনইউয়ের পর এবিভিপি-র চোখ এবার ‘যদুবংশে’! দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্র সংসদ ভোটে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবার লক্ষ্য যাদবপুর। জেএনইউ-তে যুগ্ম সম্পাদক পদ জয়ের পাশাপাশি ৪২টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে…

April 30, 2025
1 min read

জেএনইউয়ের পর এবিভিপি-র চোখ এবার ‘যদুবংশে’!

দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্র সংসদ ভোটে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবার লক্ষ্য যাদবপুর। জেএনইউ-তে যুগ্ম সম্পাদক পদ জয়ের পাশাপাশি ৪২টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। এই ‘ঐতিহাসিক’ ফলাফলকে পাথেয় করে এবারের লক্ষ্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, যাকে পড়ুয়ারা আদর করে বলেন—‘যদুবংশ’।

এবিভিপি-র দক্ষিণবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক অনিরুদ্ধ সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা, “জেএনইউ হয়ে গেছে, এবার যাদবপুর হবে।” অর্থাৎ, তাদের পরবর্তী অভিযান কলকাতার বাম দুর্গেই।

যদিও জেএনইউ-র তিনটি শীর্ষ পদে (সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি) জয়ী হয়েছে বাম ছাত্রদের একাংশের জোট, যার সদস্য ছিল আইসা ও ডিএসএফ। কিন্তু এই জোটে ছিল না এসএফআই। হিসাব বলছে, এসএফআই যদি এই জোটে যুক্ত হতো, তাহলে এবিভিপি হয়তো এতটা সাফল্য পেত না। এই বিচ্ছিন্নতার জন্যই এখন বাম শিবিরে উঠছে আত্মসমালোচনার সুর। এসএফআই-এর এক সর্বভারতীয় নেতার কথায়, “গোঁয়ার্তুমি আর অহংকারের লড়াইয়ের জন্যই এই ফল। সংগঠনের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সঠিক ধারণা না থাকায় হাওয়ায় ভেসে ভোট লড়া হয়েছে।”

যাদবপুরে এবিভিপির উপস্থিতি যদিও নতুন নয়, কিন্তু এবার তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই রামনবমীতে পুজো করে নজর কাড়ে। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রবেশপথে হনুমান ও রামের ছবি টাঙানো হয়, যেখানে পাশেই ছিল কার্ল মার্ক্স, লেনিন ও মাও জে দেঙের গ্রাফিতি। অতীতে এরকম কর্মসূচিতে বাম ছাত্রদের বাধার মুখে পড়তে হলেও, এবারে বিশেষ কোনও প্রতিবাদ চোখে পড়েনি।

এসএফআই নেত্রী দীপ্সিতা ধর বলেন, “এবিভিপি-র বিরুদ্ধে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রায় স্পষ্ট। কিন্তু আরএসএস-বিজেপিকে রুখতে হলে বাম ঐক্য অপরিহার্য।” এদিকে যাদবপুরের প্রাক্তনী ও এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের মতে, “জেএনইউ আর যাদবপুর এক নয়। এখানে বামেদের সাংগঠনিক ভিত্তি অনেক মজবুত। অ-বাংলাভাষী কিছু ছাত্র নিয়ে এবিভিপি যাদবপুর দখল করতে পারবে না।”

কিন্তু এবিভিপির বক্তব্য স্পষ্ট—“রামনবমীতে পুজো করা গিয়েছে, এবার যাদবপুরেও বাম দুর্গে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবেই।”

এই পটভূমিতে এক বছর আগের স্মৃতি যেন ফিরে আসছে। ঐশী ঘোষ তখন জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি। সেসময় একক বাম জোট জয় পায়। কিন্তু এক বছরের মধ্যে জোট ভাঙন, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও কৌশলগত বিভ্রান্তি বামদের কোণঠাসা করে ফেলেছে। সেই ফাঁক গলে এবিভিপির উত্থান এখন শুধু জেএনইউতেই নয়, যাদবপুরেও প্রবল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

যাদবপুরে বামেদের ঘাঁটি কতটা অটুট থাকে, নাকি এবিভিপি সত্যিই তাদের ‘দূর্গ’ দখল করতে পারে—তা সময়ই বলবে। কিন্তু ছাত্র রাজনীতির মানচিত্রে পালাবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

অক্ষয়তৃতীয়ায় ঐতিহ্যের সাক্ষী দিঘা! মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জগন্নাথধামে মহাযজ্ঞ, দ্বারোদ্ঘাটনের আগেই আধ্যাত্মিক আবহ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *