‘জিয়োকয়েন’ কী?
ভারতীয় টেলিকম জায়ান্ট রিলায়্যান্স জিয়ো সম্প্রতি ওয়েব৩ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য পলিগন নামক ব্লকচেন সংস্থার সঙ্গে অংশীদারি চুক্তি করেছে। আর তার পর থেকেই গুঞ্জন উঠেছে, মুকেশ অম্বানীর সংস্থা ক্রিপ্টো মুদ্রা ‘জিয়োকয়েন’ চালু করতে যাচ্ছে। কিন্তু, সত্যিই কি রিলায়্যান্স জিয়ো ডিজিটাল মুদ্রার দুনিয়ায় পা রাখছে? কীভাবে পাওয়া যাবে এই ‘মুদ্রা’? আসুন, এসবের বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
রিলায়্যান্স জিয়ো যখন পলিগনের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে, তখন থেকেই ক্রিপ্টো মুদ্রা ‘জিয়োকয়েন’-এর খবর ভাইরাল হতে শুরু করে। যদিও মুকেশ অম্বানী আগে জানিয়েছিলেন যে, রিলায়্যান্স কোন ক্রিপ্টো মুদ্রা বাজারে আনবে না, তবুও ‘জিয়োকয়েন’ নিয়ে জল্পনা থামছে না।
পলিগন ল্যাবস একটি ভারতীয় ব্লকচেন সংস্থা, যা ইথেরিয়াম নামক ক্রিপ্টো মুদ্রার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাদের সঙ্গে চুক্তি করার পর, এই প্রযুক্তির সহায়তায় ভারতের বাজারে নতুন ডিজিটাল মুদ্রা ‘জিয়োকয়েন’ আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

‘জিয়োকয়েন’ আসলে একটি ব্লকচেনভিত্তিক পুরস্কার টোকেন, যা জিয়োর গ্রাহকরা উপার্জন করতে পারবেন। গ্রাহকরা যদি জিয়োর ইন্টারনেট পরিষেবা বা অন্যান্য অ্যাপ ব্যবহার করেন, তবে তারা এই ডিজিটাল মুদ্রা উপার্জন করতে পারবেন। এছাড়া, যাদের কাছে ‘জিয়োকয়েন’ থাকবে, তারা এটি দিয়ে বিভিন্ন বিল পরিশোধ করতে পারবেন। যদিও এর মূল্য এখনও নির্ধারিত হয়নি, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এক একটি ‘জিয়োকয়েন’-এর মূল্য ৪৩ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
জিয়োকয়েন উপার্জন করার জন্য ব্যবহারকারীকে ‘জিয়োস্পিয়ার’ নামক অ্যাপে সাইন আপ করতে হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ যেমন ওয়েব ব্রাউজিং, ভিডিও দেখা, গেম খেলা, বা বিভিন্ন প্রবন্ধ পড়া, গ্রাহকরা ‘জিয়োকয়েন’ উপার্জন করতে পারবেন। রিলায়্যান্স জিয়ো এই নতুন ডিজিটাল মুদ্রা সম্পর্কে জানাতে আরও বেশ কিছু উন্নতি করতে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় এটি একাধিক ওয়েব৩ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাজারে সম্পূর্ণ ক্রিপ্টো মুদ্রা হিসেবে আনা হতে পারে, যেখানে সাধারণ মানুষও এতে বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে, এ ক্ষেত্রে কর বিষয়ক কিছু জটিলতা থাকবে, কারণ আয়কর আইন অনুযায়ী ক্রিপ্টো মুদ্রার মুনাফা থেকে ৩০% কর নেওয়া হয়।
এছাড়া, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি) এই ডিজিটাল মুদ্রার উপর কড়া নজর রাখবে।
এভাবে, ‘জিয়োকয়েন’ শীঘ্রই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতি এবং ক্রিপ্টো মুদ্রা বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
বিয়ের মরসুমে সোনা ৮১ হাজার পেরোল! গয়না না কিনে কীভাবে বিনিয়োগে লাভ বাড়ানো যায়?