জামশেদপুরকে ফেরানোর শেষ চেষ্টা এআইএফএফের!
ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য জামশেদপুর এফসিকে আরও কিছুটা সময় দিল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বে কর্তারা ক্লাবকে ১২ অগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছেন, যাতে তারা নিজেদের অবস্থান নতুন করে বিবেচনা করতে পারে। ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্লাবকে লিগে ধরে রাখার জন্য এআইএফএফের এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত ৩১ জুলাই ছিল আইএসএলে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ফি জমা দেওয়ার শেষ দিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ ক্লাব অর্থ জমা দিলেও, ঠিক শেষ মুহূর্তে আইএসএল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায় জামশেদপুর এফসি। সেই ঘোষণায় ধাক্কা খায় ভারতীয় ফুটবল মহল।
আসন্ন মরসুমে আইএসএলে খেলতে প্রতিটি ক্লাবকে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা জমা দিতে বলেছিল ফেডারেশন। জামশেদপুর ও ইন্টার কাশী ছাড়া বাকি ক্লাবগুলি আগেই অর্থ জমা দিয়েছিল। শেষ দিনে ইন্টার কাশীও ফি মিটিয়ে দেয়। কিন্তু জামশেদপুরের সিইও মুকুল চৌধুরী ফেডারেশনকে পাঠানো ই-মেলে জানান, ক্লাব পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ায় আইএসএল থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এআইএফএফের এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকের পর সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে কল্যাণ চৌবে বলেন, “টাটা গোষ্ঠী যদি সিদ্ধান্ত বদলায়, তার থেকে বেশি খুশি আর কেউ হবে না। ভারতীয় ফুটবল এবং ফুটবলারদের স্বার্থে আমরা ওদের আইএসএলে থেকে যাওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। ক্লাবের যে কোনও গঠনমূলক পরামর্শ আমরা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে প্রস্তুত।”
কল্যাণ আরও স্পষ্ট করেন, তাঁর মতে শুধু অংশগ্রহণের ফি-ই এই সিদ্ধান্তের একমাত্র কারণ নয়। ভারতীয় ফুটবলের বিকাশে টাটা গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অবদানের কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, কল্যাণ নিজেও টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া জামশেদপুর এফসি অল্প সময়ের মধ্যেই আইএসএলের অন্যতম শক্তিশালী ক্লাবে পরিণত হয়। ২০২২ সালে তারা লিগ শিল্ড জিতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামো, লিগ পরিচালনার অধিকার এবং আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ক্লাবটি আইএসএল থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিল বলে জানা গিয়েছে।
যদিও আইএসএল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জামশেদপুর এফসি জানিয়েছে যে তারা তৃণমূল স্তরে ফুটবল উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাবে। তরুণ ফুটবলার গড়ে তোলা, অ্যাকাডেমির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং যাঁদের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে, তাঁদের সম্পূর্ণ বেতন পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ক্লাব।
এখন নজর ১২ অগস্টের দিকে। সেই সময়সীমার মধ্যেই জামশেদপুর এফসি সিদ্ধান্ত বদলাবে কি না, তার উপরই নির্ভর করছে আসন্ন আইএসএল মরসুমে তাদের ভবিষ্যৎ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।