জন্ম থেকেই পা নেই, তবুও বিশ্বরেকর্ড গড়লেন জ়িয়ন ক্লার্ক — অনুপ্রেরণার এক অন্য নাম!

জন্ম থেকেই পা নেই, তবুও বিশ্বরেকর্ড গড়লেন জ়িয়ন ক্লার্ক! জন্ম থেকেই দু’টি পা নেই। বাবা-মা দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছিলেন। ঠিকানা হয়েছিল অনাথ আশ্রম। কিন্তু সেই একা লড়াই করা শিশুই আজ…

October 21, 2025
1 min read

জন্ম থেকেই পা নেই, তবুও বিশ্বরেকর্ড গড়লেন জ়িয়ন ক্লার্ক!

জন্ম থেকেই দু’টি পা নেই। বাবা-মা দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছিলেন। ঠিকানা হয়েছিল অনাথ আশ্রম। কিন্তু সেই একা লড়াই করা শিশুই আজ বিশ্বরেকর্ডধারী অ্যাথলিট — নাম তাঁর জ়িয়ন ক্লার্ক (Zion Clark)।

👉 আরও পড়ুন: ঋষভ পন্থ: ‘ঐশ্বরিক শক্তির সাহায্যে আমি ফিরেছি মাঠে’


🧬 জন্ম থেকেই লড়াই

তথ্যবিস্তারিত
জন্ম তারিখ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭
জন্মস্থানকলম্বাস, ওহাইও, যুক্তরাষ্ট্র
রোগের নামCaudal Regression Syndrome
অবস্থাশরীরের নিম্নাংশের বিকাশ সম্পূর্ণ না হওয়া

এই বিরল রোগের কারণেই জ়িয়নের শরীরের নিচের অংশের বিকাশ হয়নি, অর্থাৎ জন্ম থেকেই দু’টি পা ছিল না। বাবা-মা তাঁকে ত্যাগ করেন, রেখে যান অনাথ আশ্রমে।


💔 অনাথ আশ্রম থেকে জীবনের মঞ্চে

শৈশব কেটেছে দত্তক গ্রহণ ও প্রত্যাখ্যানের দোলাচলে। বহুবার আশার আলো দেখা গেলেও প্রতিবারই ফিরতে হয়েছে আশ্রমে।
অবশেষে ১৭ বছর বয়সে কিম্বারলি হকিন্স নামে এক মহিলা তাঁকে দত্তক নেন — যিনি আজও তাঁর “মা”।

জ়িয়নের নিজের কথায়,

“মা আমাকে জীবনের উদ্দেশ্য দিয়েছেন। লড়াই করার মানে শিখিয়েছেন।”


💪 এক হাতে পৃথিবী জয়

জ়িয়ন ভর্তি হন Kent State University-তে। সহপাঠীদের হাসাহাসি, কটূক্তি, বঞ্চনা — কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি।
তিনি শুরু করেন জিমে অনুশীলন এবং রেসলিং ট্রেনিং। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর কিংবদন্তি যাত্রা।

সাফল্যসময়/সংখ্যা
২০ মিটার দ্রুততম হ্যান্ড-ওয়াক (হাতে দৌড়)⏱️ ৪.৭৮ সেকেন্ড (গিনেস রেকর্ড)
৩ মিনিটে পুশ-আপ সংখ্যা💪 ২৪৮
তথ্যচিত্র (Netflix)🎬 Zion (2018)

(সূত্র: Guinness World Records)


🧠 মানসিক শক্তিই সবচেয়ে বড় পেশি

হাত দিয়ে দৌড়ানো, ব্যথায় ভরা শরীর নিয়েও প্রতিদিন জ়িয়নের পরিশ্রম থামে না। তিনি চান,

“আমার মতো যারা হাল ছেড়ে দিয়েছে, তারা যেন আবার বাঁচার কারণ খুঁজে পায়।”

তাঁর ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব প্রোফাইল ভরপুর এমন ভিডিওয়, যা আজ লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।

👉 আরও দেখুন: অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে উঠে দাঁড়ানো অ্যাথলিটদের গল্প


🌍 জ়িয়ন ক্লার্ক আজ বিশ্বের অনুপ্রেরণা

তিনি এখন শুধু রেকর্ডধারী নন, মোটিভেশনাল স্পিকার, লেখক, এবং WWE রেসলার হিসেবেও খ্যাত।
সকালে পোষ্যের যত্ন, তারপর অনুশীলন — এমনটাই তাঁর দিনযাপন।
প্রতিদিন তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ করেন,

“অক্ষমতা শরীরে নয়, মনের ভিতরেই থাকে।”

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *