বৈভব সূর্যবংশীর বিস্ফোরক ইনিংসে মাতল রাজস্থান!
মাত্র ১৫-তে পা দিয়েছে সে—আর সেই বয়সেই আইপিএলের মঞ্চে এমন দাপট! Vaibhav Suryavanshi যেন নিজের জন্মদিন উদ্যাপন করলেন একেবারে অন্যভাবে—কেক কেটে নয়, ব্যাট চালিয়ে।
২৬ মার্চ ছিল তাঁর জন্মদিন। সাধারণত এই দিনে সতীর্থদের কাছ থেকে ‘কেক মাখানো’ রীতিটা বেশ পরিচিত। কিন্তু সেই ‘আক্রমণ’ এড়াতেই নাকি আগেভাগেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বৈভব! ফলে সেদিন আর কোনও উদ্যাপন হয়নি। তবে বাকি ছিল পার্টি—আর সেটাই তিনি সারলেন মাঠে, Chennai Super Kings-এর বোলারদের উপর ঝড় তুলে।
গুয়াহাটির ম্যাচে মাত্র ১৭ বলে ৫২ রান—এক কথায় বিস্ফোরক ইনিংস। ম্যাচের পর বৈভব জানালেন, আলাদা করে কোনও বড় পরিকল্পনা ছিল না। শুধু পাওয়ার প্লের সুযোগটা কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। শুরুতে পিচ কিছুটা ধীর ছিল, বল ব্যাটে ঠিকমতো আসছিল না। এক সময় মনে হয়েছিল একটু ধীরগতিতে খেলবেন। কিন্তু দলের কৌশল ছিল শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া—আর সেটাই তিনি নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেন।
তরুণ এই ব্যাটারের আত্মবিশ্বাসের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে Rajasthan Royals দলের সমর্থন। অধিনায়ক Riyan Parag তাঁকে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন—বাইরের কথা না শুনে নিজের মতো খেলতে। সেই স্বাধীনতাই যেন বৈভবের ব্যাটে আগুন জ্বালিয়েছে।
ম্যাচের পর পরাগ বলেন, “ওকে শুধু নিজের খেলাটা খেলতে বলেছিলাম। অনুশীলনেও দারুণ ব্যাট করছিল। আজ সবাই দেখল, সুযোগ পেলে ও কী করতে পারে।”
দলের সিনিয়র ক্রিকেটার Yashasvi Jaiswal-ও পাশে ছিলেন বৈভবের। প্রতিটি বলের পর তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন, আক্রমণাত্মক খেলতেই বলেছেন। ছোট রান নেওয়ার চাপে ফেলেননি একবারও। সেই সমর্থন তরুণ ব্যাটারকে আরও সাহসী করে তোলে।
শুধু ব্যাটিং নয়, দলের বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়েও খুশি বৈভব। তিনি মনে করেন, চেন্নাইকে কম রানে আটকে রাখা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। কোচিং স্টাফ এবং দলের প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই জয়ে টসের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করেন অধিনায়ক পরাগ। বৃষ্টির পর লাল মাটির উইকেট বোলারদের সহায়তা করছিল, আর সেটাকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে দল।
সব মিলিয়ে, জন্মদিনের কেক এড়িয়ে যাওয়া সেই কিশোরই কয়েক দিনের মধ্যে আইপিএল মঞ্চে নিজের ‘পার্টি’ সেরে ফেলল। আর সেই পার্টিতে অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রতিপক্ষ বোলাররা—যাদের একের পর এক বাউন্ডারিতে বিদ্ধ করলেন বৈভব সূর্যবংশী।
এই ইনিংস শুধু একটি ম্যাচ জেতায়নি, বরং জানিয়ে দিল—ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ হয়তো ইতিমধ্যেই এসে গেছে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না