জঙ্গিদের শেষকৃত্যে পাক সেনা-পুলিশ!
পাকিস্তানের মুরিদকেতে এক ‘জঙ্গি’র শেষকৃত্যে দেখা গিয়েছিল সেনা ও পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্তার উপস্থিতি। এই ঘটনা ঘিরে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল ভারত। রবিবার ভারতীয় সেনা ও বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে পাঁচ জন পাক আধিকারিকের নাম, ছবি ও পদমর্যাদা প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—জঙ্গিদের শেষযাত্রায় অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী একপ্রকার সন্ত্রাসবাদকে ‘সরকারি সম্মান’ দিচ্ছে।
ভারতীয় সেনার দাবি, সম্প্রতি চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ লশকর-এ-ত্যায়বার অন্তত তিন সদস্য নিহত হয়। নিহতদের নাম—কারি আব্দুল মালিক, খালিদ ও মুদাস্সির। এঁরা সবাই জামাত-উদ-দাওয়া নামের কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য, যার জন্মদাতা ২৬/১১ মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদ।
ভারতের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যারা ওই জঙ্গিদের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম:
- লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফায়াজ হোসেন শাহ – লাহৌরের আইভি কর্পসের কমান্ডার।
- মেজর জেনারেল রাও ইমরান সরতাজ – লাহৌরের ১১তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের আধিকারিক।
- ব্রিগেডিয়ার মহম্মদ ফুরকান শাব্বির
- পাকিস্তান পঞ্জাব পুলিশের আইজি উসমান আনোয়ার
- পাকিস্তান পঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য মালিক শোয়েব আহমেদ ভের্থ
এই ঘটনাগুলিকে ঘিরে আরও বিতর্ক দানা বেঁধেছে কারণ, ভারতীয় সেনা যেসব ছবি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, লশকর নেতা হাফিজ আব্দুল রউফ বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন পাক আধিকারিকেরা। এছাড়া নিহত জঙ্গিদের মরদেহ জাতীয় পতাকায় ঢেকে ‘শহিদ’ সম্মানও জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ভারত একে ‘সন্ত্রাসবাদের গোপন নয়, প্রকাশ্য মদত’ বলে উল্লেখ করেছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক আগেই জানিয়েছিল, পাকিস্তান যেভাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সন্ত্রাসবাদীদের ‘জাতীয় সম্মান’ দিচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশ্ন তুলবে ভারত। গত ৮ মে এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘গভীর উদ্বেগের’ বলে অভিহিত করে ভারত।
পাকিস্তান অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। বরং তাদের দাবি, ভারতের হামলায় যারা নিহত হয়েছেন, তারা কোনও জঙ্গি নয়, বরং সাধারণ নাগরিক। আর সেই কারণেই তাঁদের সম্মান জানানো হয়েছে জাতীয় পতাকায়।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—যদি তারা সাধারণ নাগরিক হয়, তবে সেনা ও পুলিশের এত শীর্ষকর্তা একসঙ্গে কেন তাঁদের শেষকৃত্যে হাজির ছিলেন? লশকর নেতারা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিলেন কেন?
এই প্রশ্নগুলোর জবাব এখনও মেলেনি। তবে ভারতের পক্ষ থেকে নাম ও ছবি প্রকাশ করায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরে পাক প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি করতে পারে বলেই মত বিশ্লেষকদের।