রুফটপ রেস্তরাঁ নিয়ে কলকাতা পুরসভার শুনানিতে আশার আলো!
কলকাতার আকাশছোঁয়া রুফটপ রেস্তরাঁগুলিকে ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা অবশেষে পৌঁছল পুরসভার দরজায়। রেস্তরাঁ বন্ধ হয়ে যাবে—এই আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ী মহল কলকাতা পুরসভার শুনানিতে মুখোমুখি হলেন। তবে উত্তরে মিলল একটি বড় বার্তা—যদি নিয়ম মানা হয়, তবে সহযোগিতায় কোনও ঘাটতি রাখবে না পুরসভা।
আদালতের ভার পুরসভায়, মালিকদের বক্তব্য গুরুত্ব পেল
সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্ট এই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব পুরসভার হাতেই তুলে দেয়। সেই অনুযায়ী, ৭, ৮ ও ১০ নম্বর বরো এলাকার তিনটি জনপ্রিয় রুফটপ রেস্তরাঁ ও পানশালার মালিকদের ডেকে পাঠানো হয় শুনানিতে। উপস্থিত ব্যবসায়ীরা তাঁদের দিক ব্যাখ্যা করে বলেন, ছাদে ব্যবসা চালাতে আলাদা করে পুরসভার অনুমতি প্রয়োজন—এই তথ্য তাঁদের অজানা ছিল। শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতেই তাঁরা ব্যবসা চালিয়েছেন এত দিন। এখন বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা পুরসভার সঙ্গে হাত মেলাতে প্রস্তুত।
“আইনের বাইরে কিছু নয়”, বলছেন মালিকরা
শুনানিতে একাধিক রেস্তরাঁ মালিক জানান, তাঁরা কোনওরকম বেআইনি পথে হাঁটতে চান না। বরং নিয়ম মেনেই ব্যবসা চালাতে ইচ্ছুক। যদি পুরসভা নির্দেশ দেয় ছাদের কোনও অংশ ভেঙে নতুন করে গড়তে হবে, তাতেও তাঁরা আপত্তি করবেন না। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা—“রেস্তরাঁ বন্ধ না হোক, বরং নিয়ম মেনে চলার একটা সুযোগ দেওয়া হোক।”
১১ জুনের মধ্যে জমা দিতে হবে যাবতীয় নথিপত্র
পুরসভার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, “আদালত আমাদের ওপরই দায়িত্ব দিয়েছে। তাই সব পক্ষকে শোনা হয়েছে। ১১ জুনের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স, আবগারি দফতরের অনুমতি, দমকলের ছাড়পত্রসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।” এই নথিপত্র যাচাই করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ রিপোর্ট দেবে। এরপর একটি বিশেষ কমিটি সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পুরসভার কাছে সুপারিশ পাঠাবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে রেস্তরাঁগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে।
জীবিকা রক্ষার আবেদন, দ্রুত নিষ্পত্তি চাই
রেস্তরাঁ মালিকদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, এই ব্যবসার সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িয়ে আছে—রাঁধুনি, ওয়েটার, সাপ্লায়ার, পরিষেবা কর্মীসহ অসংখ্য মানুষ। তাই তাঁরা আশা করছেন, প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বিবেচনা করবে।
শহরের অন্যতম আকর্ষণ, এই রুফটপ রেস্তরাঁগুলিতে প্রতিদিন ভিড় করেন হাজারো মানুষ—খাবারের টানে নয়, শহরের রূপ দেখার আকর্ষণেও। তাই ব্যবসা চালু রাখা মানে শুধু অর্থনীতি সচল রাখা নয়, শহরের সাংস্কৃতিক রুচিকেও বাঁচিয়ে রাখা।
বেলের পানা: মোগল দরবার থেকে ওড়িশার পুজোর প্রসাদ—ভারতের প্রাচীন শরবতের আশ্চর্য যাত্রা