রাজস্থানি পেসার জয় মুন্দ্রার হাতেই ভেঙে পড়ল ভারতের ব্যাটিং
মাত্র ছ’মাস আগেও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাকরি খুঁজছিলেন। ক্রিকেট তখন জীবনের মূল লক্ষ্য নয়, বরং শখের জায়গা। সেই মানুষটিই আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আয়ারল্যান্ডের বাঁহাতি পেসার জয় মুন্দ্রা ভারতের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত বোলিং করে সিরিজ়সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন।
রাজস্থানে জন্ম নেওয়া জয়ের ক্রিকেটজীবনের শুরু ভারতে। ঘরোয়া স্তরে খেললেও পেশাদার ক্রিকেটে বড় সুযোগ পাননি। ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য আয়ারল্যান্ডে পাড়ি দেন। সেখানে ইলেকট্রনিকস ও কমিউনিকেশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর একটি সংস্থায় চাকরিও শুরু করেন। কিন্তু ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সেই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর দীর্ঘদিন নতুন কাজের খোঁজে ছিলেন তিনি।
জয়ের লিঙ্কডইন প্রোফাইলেও দেখা গিয়েছিল, তিনি আয়ারল্যান্ড-সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চাকরির আবেদন করছেন। যে কোনও উপযুক্ত কাজের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। তখনও তিনি কল্পনাও করেননি, কয়েক মাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে আলো ছড়াবেন।
চাকরির পাশাপাশি স্থানীয় ক্লাব ক্রিকেটে নিয়মিত খেলতেন জয়। সেখানেই তাঁর বোলিং নজর কাড়ে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের এক কর্মকর্তার। জাতীয় দলের কয়েকজন পেসার চোটে পড়ায় ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ়ে সুযোগ পান তিনি। সেই সুযোগই নিজের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই নিখুঁত লাইন ও লেংথে ভারতীয় ব্যাটারদের চাপে ফেলেন জয়। আউট করেন সঞ্জু স্যামসন ও শিবম দুবেকে। দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। ইনিংসের প্রথম ওভারেই শূন্য রানে ফেরান দুই ওপেনার সঞ্জু ও অভিষেক শর্মাকে। পরে অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের উইকেটও তুলে নেন। তাঁর এই ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি ভারত। সিরিজ়ে ৫ উইকেট নিয়ে জয় হন সেরা ক্রিকেটার।
পুরস্কার নেওয়ার পর আবেগপ্রবণ জয় বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ়সেরা হওয়ার কথা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি। কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, কিন্তু আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড তাঁর উপর ভরসা রেখেছিল। সেই আস্থার মর্যাদা দিতে পেরে তিনি খুশি। বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা না করে নিজের শক্তির জায়গায় থেকেছেন। ঠিক জায়গায় বল ফেলেছেন, আর সেটাই সাফল্যের চাবিকাঠি হয়েছে।
মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে চাকরিপ্রার্থী থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নায়ক— জয় মুন্দ্রার এই উত্থান প্রমাণ করে, সঠিক সুযোগ এবং প্রস্তুতি থাকলে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে খুব বেশি সময় লাগে না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?