ছবি নেই, হল বন্ধ: টালিগঞ্জে বৈঠক হলেও মিলল না স্পষ্ট সমাধান

টালিগঞ্জে বৈঠক হলেও মিলল না স্পষ্ট সমাধান! ভাল বাংলা ছবির অভাবে শহরের একাধিক সিনেমাহল বন্ধ—এই অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু সমস্যার সমাধান খুঁজতে ডাকা বৈঠকেও যেন পুরো ছবিটা স্পষ্ট হল না।…

March 12, 2026
0 min read

টালিগঞ্জে বৈঠক হলেও মিলল না স্পষ্ট সমাধান!

ভাল বাংলা ছবির অভাবে শহরের একাধিক সিনেমাহল বন্ধ—এই অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু সমস্যার সমাধান খুঁজতে ডাকা বৈঠকেও যেন পুরো ছবিটা স্পষ্ট হল না। কারণ, আলোচনায় হাজির ছিলেন হলমালিক ও পরিবেশকেরা, কিন্তু দেখা গেল না কোনও প্রযোজককে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—সমাধানের পথ আদৌ কতটা এগোল?

এই পরিস্থিতিতে বুধবার ইমপা অফিসে বৈঠকের ডাক দেন স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য এবং ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। পাশাপাশি শহরের একাধিক সিনেমাহলের মালিক এবং পরিবেশকেরাও যোগ দেন আলোচনায়।

উপস্থিতদের তালিকায় ছিলেন বিনোদিনী সিনেমাহলের মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, নবীনা সিনেমাহলের মালিক নবীন চৌখানি, পরিবেশক পঙ্কজ লাডিয়া, শতদীপ সাহা, মিনার–বিজলি–ছবিঘরের ম্যানেজার চিরঞ্জিৎ সাহা এবং আরও কয়েক জন হলমালিক ও পরিবেশক। তবে আলোচনার টেবিলে প্রযোজকদের অনুপস্থিতি অনেকের নজর কেড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হলমালিকদের অভিযোগ, খারাপ সময়েও হিন্দি ছবির পরিবেশকেরা খুব একটা পাশে থাকেন না। এবার কি বাংলা ছবির প্রযোজকেরাও একই দূরত্ব বজায় রাখলেন? বুধবারের বৈঠকের পর সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে টালিগঞ্জে। যদিও পিয়া সেনগুপ্তের দাবি, এই বৈঠক মূলত হলমালিক এবং পরিবেশকদের সমস্যার কথা শুনতেই ডাকা হয়েছিল।

আলোচনায় উঠে আসে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—বাংলা ছবির মুক্তির সময়সূচি। সাধারণত উৎসবের সময়ই বড় বাজেটের বাংলা ছবি মুক্তি পায়। সেই সময়েই আবার মুক্তি পায় বড় হিন্দি ছবিও। ফলে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সিনেমাহলে বাংলা ছবিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং প্রতিদিন অন্তত একটি প্রাইম টাইম শো রাখতে হবে। এই নিয়ম মানতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই হিন্দি ছবির পরিবেশকদের সঙ্গে হলমালিকদের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বৈঠকে পিয়া ও স্বরূপ সেই বিষয়টিই আবার মনে করিয়ে দেন।

তাঁদের বক্তব্য, সারা বছর যদি নিয়মিত বাংলা ছবি মুক্তি পায়, তাহলে হলমালিকদের এই সমস্যার মুখে পড়তে হবে না। উৎসবের সময় একাধিক ছবি মুক্তি পেলে অন্য ভাষার ছবিও স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারে এবং ব্যবসার ভারসাম্য বজায় থাকে।

তবে এখানেই উঠছে মূল প্রশ্ন—যাঁদের উদ্দেশে এই বার্তা, সেই প্রযোজকেরাই তো বৈঠকে অনুপস্থিত! প্রযোজকদের ছাড়া হলমালিকেরা কী ভাবে নতুন ছবি প্রদর্শনের পরিকল্পনা করবেন? এই প্রশ্নের জবাবে পিয়া জানান, বৈঠকটি খুব অল্প সময়ের নোটিসে ডাকা হয়েছিল। কয়েকজন প্রযোজক শহরের বাইরে থাকায় আসতে পারেননি, অন্যরা উপস্থিতি সম্পর্কে কিছু জানাননি।

এদিকে, হল বন্ধ থাকার কারণ নিয়েও রয়েছে দ্বন্দ্ব। অনেক হলমালিক বলছেন, নতুন ছবির অভাবেই তাঁরা হল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। আবার টালিগঞ্জের অন্দরমহলে শোনা যাচ্ছে, ইদের আগে সাধারণত ছবিমুক্তি কম থাকে। সেই সময়টাতেই অনেক হলমালিক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করেন।

বাস্তবতাও কিছুটা সে কথাই বলছে। কোথাও হলের বাইরে রং করার কাজ চলছে, কোথাও ঝুলছে রক্ষণাবেক্ষণের নোটিস। বিনোদিনী সিনেমাহলের মালিক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ও স্বীকার করেছেন—দুই কারণই রয়েছে। দর্শক কম থাকায় হল খোলা রাখা কঠিন, তাই সেই সময়টাতেই মেরামতির কাজ সেরে নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বৈঠক হলেও সমস্যার স্পষ্ট সমাধান এখনও অধরা। বাংলা ছবির নিয়মিত মুক্তি, হলমালিকদের ব্যবসা এবং দর্শকের আগ্রহ—এই তিনের ভারসাম্য না এলে পরিস্থিতি বদলানো কঠিন বলেই মনে করছেন অনেকে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *