চোরবাগান পদপিষ্টের ঘটনায় তদন্তে ছ’সদস্যের সিট!
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের জন্য ছ’সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, এই তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে থাকছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। তিন মাসের মধ্যে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে কমিটিকে।
কারা থাকছেন তদন্তকারী দলে?
রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী ছাড়াও দলে থাকছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, রাজ্য স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি ও আইজি, রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিনিধি এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর এক সদস্য।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়। কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, কোথায় গাফিলতি ছিল এবং কী ভাবে এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যেত, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে আলাদা সিট গঠন করেছে। রাজ্য সরকারের নতুন কমিটি ঘটনার সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে।
কেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত?
প্রথমে রাজ্য সরকার হাই কোর্টের কোনও কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত করানোর আবেদন জানিয়েছিল। সেই মর্মে মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের কাছে চিঠি পাঠান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তের পক্ষে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে প্রধান বিচারপতি সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি জানান, সমকালীন কোনও ঘটনার প্রশাসনিক তদন্তে কর্মরত বিচারপতিকে যুক্ত করা যাবে না। সেই কারণেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কী কী খতিয়ে দেখবে সিট?
চোরবাগানের দুর্ঘটনার নেপথ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নির্ধারণ করাই নতুন তদন্তকারী দলের প্রধান দায়িত্ব। কোন সময়ে, কোথায় এবং কী ভাবে ভিড়ের চাপ তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে। নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় মণ্ডপে বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এ ছাড়াও, মণ্ডপ ভেঙে পড়ার ঘোষণা বা বৃষ্টির কারণে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে সিট। পুজো উদ্যোক্তাদের ভূমিকা, নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, সেগুলিও তদন্তের বিষয়।
তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা
শুধু দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করাই নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সে সম্পর্কেও সুপারিশ করবে তদন্তকারী দল। তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখন তদন্তের রিপোর্টেই স্পষ্ট হতে পারে, চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পিছনে কোন কোন পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য গাফিলতি দায়ী ছিল। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে দায়ী বলে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।