করোনা সন্দেহে ফিরিয়ে দেওয়া রোগীর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ হাই কোর্টের
করোনা আতঙ্কে চিকিৎসা না পেয়ে প্রাণ হারালেন এক তরুণ, আর এই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হল কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল। শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল— ন্যূনতম চিকিৎসা না দিয়ে রোগীকে অবহেলা করা একেবারেই অনুচিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। তাই অবিলম্বে হাসপাতালকে মৃতের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের ১০ জুলাই, করোনা সংক্রমণের ভয়াবহ প্রথম তরঙ্গে যখন সারা দেশ আতঙ্কিত, সেই সময় বেলঘরিয়ার যুবক শুভজিৎ চট্টোপাধ্যায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের দাবি, তাঁর তখন তীব্র অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। কিন্তু করোনা আক্রান্ত সন্দেহ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে চিকিৎসা দিতে অস্বীকার করে। চিকিৎসা তো দূর, প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এই অবহেলার ফলেই ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু হয় শুভজিতের।
ঘটনার পর কী হয়েছিল?
শুভজিতের পরিবার এক মুহূর্তও দেরি না করে রাজ্য স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশনের দ্বারস্থ হন। কমিশন হাসপাতালের গাফিলতি মেনে নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু হাসপাতাল সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করে। সিঙ্গল বেঞ্চ সেই আবেদন খারিজ করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ বহাল রাখে। বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চও জানিয়ে দিল— হাসপাতালের ভূমিকা অমানবিক এবং দায়বদ্ধতাহীন ছিল।
শুভজিতের মা কী বললেন?
আদালতের রায় শোনার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মৃত যুবকের মা। সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা বিচার পেলাম। আমার ছেলে ফিরে আসবে না জানি, কিন্তু এই রায়ের মাধ্যমে অন্তত প্রমাণ হল যে হাসপাতাল ভুল করেছিল। সেই টাকা আমি কোনও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করব না। এটা আমি অসহায় মানুষের চিকিৎসার জন্য ব্যয় করব, এটাই হবে আমার সন্তানের উদ্দেশে শ্রদ্ধাঞ্জলি।”
রায়টির গুরুত্ব কী?
এই রায় শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার নজির নয়, এটি সমগ্র চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য একটি বার্তা— করোনা বা অন্য কোনও অতিমারী পরিস্থিতিতেও চিকিৎসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া চলবে না। হাসপাতালগুলো রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসার প্রতি দায়বদ্ধ, শুধুমাত্র লাভ বা আতঙ্কের বশে কাজ করা চলবে না।
এখনও চলছে মূল মামলার শুনানি, যেখানে শুভজিতের মৃত্যুর পিছনে অবহেলা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। তবে আপাতত এই ক্ষতিপূরণের রায় পরিবারকে সামান্য হলেও সান্ত্বনা দিয়েছে।
চল্লিশের পর ফিটনেস মানে শুধু ঘাম নয়, সচেতনতা! লিসা রে জানালেন কোন ব্যায়াম থেকে দূরে থাকবেন